প্রকাশিত: ০৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১৭:৩২ (শনিবার)
ম্যারাডোনার মৃত্যুর ঘটনায় ১২ বছরের কারাদণ্ড পেতে যাচ্ছেন চিকিৎসকরা!

ফাইল ছবি:

ফুটবল কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনার মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগে অভিযুক্ত চিকিৎসাকর্মীদের সর্বোচ্চ ১২ বছরের কারাদণ্ড চেয়েছেন আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) আদালতে সমাপনী বক্তব্যে কৌঁসুলিরা অভিযোগ করেন, মৃত্যুর আগে ম্যারাডোনার চিকিৎসায় যুক্ত দলটির বিশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা তাকে কার্যত অসহায় ফেলে রেখেছিল।

১৯৮৬ বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টিনা দলের এই তারকা মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের জেরে অস্ত্রোপচারের দুই সপ্তাহ পর বুয়েনস এইরেসের উপকণ্ঠে তিগ্রে এলাকায় ভাড়া বাড়িতে মারা যান।

হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং তীব্র পালমোনারি এডিমায় (ফুসফুসে তরল জমার একটি অবস্থায়) তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৬০ বছর।

ম্যারাডোনার চিকিৎসায় যুক্ত ছিলেন তার প্রধান চিকিৎসক, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, মনোবিজ্ঞানী ও নার্সরা। মৃত্যুর আগে তাকে যথাযথ চিকিৎসা ও পরিচর্যা দিতে গুরুতর ব্যর্থতার অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে। তবে অভিযুক্তরা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

সমাপনী বক্তব্যে কৌঁসুলি পাত্রিসিও ফেরাই বলেন, অভিযুক্তদের বিশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা অসুস্থ ম্যারাডোনাকে অসহায় পরিস্থিতিতে ফেলে দিয়েছিল, তাকে তার ভাগ্যের হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল’।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, অভিযুক্তরা তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন, চিকিৎসাবিজ্ঞানের নীতির পরিপন্থী কাজ করেছেন এবং যেসব পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন ছিল, সেগুলোও নেননি।

অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ‘দোলো ইভেনচুয়াল’ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। আইনি পরিভাষাটির অর্থ, কোনো ব্যক্তি তার কর্মকাণ্ডে ক্ষতি হতে পারে জেনেও সেটি চালিয়ে যান।

রাষ্ট্রপক্ষ ম্যারাডোনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক লিওপোলদো লুকের জন্য সর্বোচ্চ ১২ বছরের কারাদণ্ড চেয়েছে। অন্য চিকিৎসাকর্মীদের জন্য চার থেকে ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের আবেদন করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, একজন নার্স এবং কয়েকজন সমন্বয়কারী।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত স্বাস্থ্যকর্মীদের দাবি, ম্যারাডোনার মৃত্যু আগে থেকে অনুমান করা সম্ভব ছিল না এবং তারা নিজেদের দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রত্যেকেই আবার ম্যারাডোনার চিকিৎসায় ব্যক্তিগত দায় এড়িয়ে গেছেন।