আন্তর্জাতিক খ্যাতনামা প্রকাশনা সংস্থা এলসেভিয়ার এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যায়ের যৌথ পরিচালনায় প্রকাশিত বিশ্বসেরা ২ শতাংশ বিজ্ঞান গবেষকের তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) পরিসংখ্যান বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ও বর্তমানে জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের (নিপসম) বায়োস্ট্যাটিস্টিক্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান মো. মেসবাহউর রহমান।
গত বুধবার (৭ অক্টোবর) শীর্ষস্থানীয় চিকিৎসা ও বিজ্ঞানবিষয়ক প্রকাশনা সংস্থা এলসেভিয়ার এই তালিকা প্রকাশ করে।
তালিকায় স্থান পাওয়া শাবিপ্রবির সাবেক শিক্ষার্থী মো. মেসবাহউর রহমান বর্তমানে জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের (নিপসম) বায়োস্ট্যাটিস্টিক্স (জৈবপরিসংখ্যান) বিভাগে সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান হিসেবে কর্মরত। বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত ও স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিপসম জনস্বাস্থ্য বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি প্রদান করে থাকে।
শাবিপ্রবির পরিসংখ্যান বিভাগের ২০১১-১২ সেশনের সাবেক শিক্ষার্থী মো. মেসবাহউর রহমান মূলত জনস্বাস্থ্য, উন্নয়ন এবং গবেষণা পদ্ধতি বিষয়ে কাজ করে থাকেন।
মেববাহউর রহমান সূত্রে জানা যায়, এ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সাময়িকীতে তাঁর ৬০টিরও বেশি গবেষণা নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে বিশ্বখ্যাত ‘দ্য ল্যানসেট’, ‘ন্যাচার’, ‘এলসেভিয়ার’, ‘কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস’, ‘অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস’, ‘বায়োমেড সেন্ট্রাল’ এবং ‘উইলি’ অন্যতম।
জৈবিকভাবে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের ওপর ২০২৩ সালে তৈরি তাঁর একটি বিশেষ গবেষণা চায়নিজ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন ও চায়নিজ সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি)-এর যৌথ সাময়িকী 'বায়োসেফটি অ্যান্ড হেলথ'-এ প্রকাশিত হয়। গবেষণাটি পরবর্তীতে আমেরিকা ও ব্রিটেনের জনপ্রিয় গণমাধ্যমসহ বিশ্বখ্যাত বৈজ্ঞানিক ম্যাগাজিন ‘সাইন্স’-এর পদার্থবিজ্ঞান (ফিজ ডট অর্গ) বিভাগে বৈশিষ্ট্যযুক্ত খবর (ফিচার) হিসেবে স্থান পায়।
জানা যায়, মো. মেসবাহউর রহমানের বেড়ে ওঠা যশোর জেলার সদর থানার চুড়ামনকাঠি ইউনিয়নের শ্যামনগর গ্রামে। তিনি স্থানীয় বেলেরমাঠ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক, আমবটতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং যশোরের হামিদপুর আলহেরা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) সম্পন্ন করেন। এরপর তিনি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগে ভর্তি হন এবং সেখান থেকে কৃতিত্বের সাথে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে মেসবাহউর রহমান বলেন, "বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ গবেষকের তালিকায় স্থান পাওয়া যেকোনো গবেষকের জন্যই অত্যন্ত আনন্দ ও সম্মানের। এই স্বীকৃতি আমার সহকর্মী, শিক্ষক এবং গবেষণার সঙ্গে যুক্ত সকল শুভাকাঙ্ক্ষীদের। আন্তর্জাতিক পর্যায়ের এই অর্জন আমাকে জনস্বাস্থ্য ও বায়োস্ট্যাটিস্টিক্স ক্ষেত্রে দেশের মানুষের কল্যাণে আরও কাজ করার অনুপ্রেরণা জোগাবে।"
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.