প্রকাশিত: ০৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:৫৪ (বুধবার)
বিক্ষোভে উত্তাল দিল্লি, রাহুল-প্রিয়াঙ্কা আটক

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধীদের বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সংসদ ভবন থেকে নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ের দিকে মিছিল বের করলে বিরোধী জোটের নেতাদের বাধা দেয় পুলিশ।

একপর্যায়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও তার বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ কয়েকজন বিরোধী নেতাকে আটক করা হয়।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) এই বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী।

তার সঙ্গে ছিলেন কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন ও সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবসহ ইন্ডিয়া জোটের অন্য নেতারা।

আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীরা পুলিশের ব্যারিকেড অতিক্রমের চেষ্টা করলে কয়েকজন বিরোধী নেতাকে আটক করা হয়।

দিল্লির কেন্দ্রীয় এলাকায় এদিন ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদার করা হয় এবং বিভিন্ন স্থানে ব্যারিকেড বসানো হয়।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, বিরোধীরা প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করছেন।

ভোটার তালিকা সংশোধনের চলমান বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা বা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগ, এর মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক ভোটার ভোটাধিকার হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারেন এবং এতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি রাজনৈতিকভাবে সুবিধা পেতে পারে। তবে নির্বাচন কমিশন ও সরকার কোনো অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

মঙ্গলবার সংসদ ভবনের মকর দ্বার থেকে মিছিলটি শুরু হয়। পরে পুলিশ তাদের পথ আটকে দিলে বিরোধী সংসদ সদস্যরা সড়কে বসে অবস্থান নেন। রাহুল গান্ধীকে পুলিশের ব্যারিকেডের ওপর দাঁড়াতেও দেখা যায়। তার হাতে থাকা একটি পোস্টারে লেখা ছিল, ‘জ্ঞানেশ, ইটস ডান ব্রো!’ পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তিনি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেন।

পুলিশের বাধার মুখে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ বিরোধী নেতাদের সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। তাদের একটি বাসে তুলে নেওয়া হয় বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।

ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিরোধীদের এই আন্দোলন গত কয়েক দিন ধরেই চলছে। বিরোধীদের অভিযোগ, সংশোধন প্রক্রিয়ার কারণে প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, ভোটার তালিকা থেকে ভুয়া, মৃত ও একাধিকবার থাকা ভোটারের নাম বাদ দিয়ে তালিকা শুদ্ধ করাই এই প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য।

এদিকে ভারতের সুপ্রিম কোর্টও ভোটার নিবন্ধনসংক্রান্ত ফরমে পরিবর্তন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য পরীক্ষা করার কথা জানিয়েছে। সোমবার আদালত জানায়, সংশোধিত ফরমের কোনো সংস্করণ তারা অনুমোদন করেছে কি না, সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের নথি পর্যালোচনা করা হবে।

দিল্লিতে বিরোধীদের এই বিক্ষোভের মধ্য দিয়ে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা এবং ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে রাজনৈতিক বিরোধ আরও তীব্র হলো।