প্রকাশিত: ০৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:২৫ (মঙ্গলবার)
আজমিরীগঞ্জে পরিত্যক্ত গুদামেই পৌরসভা

ছবি সংগৃহীত :

একটি ইউনিয়ন পরিষদকে বিভক্ত করে পৌরসভা গঠনের ২২ বছর পেরিয়ে গেলেও বদলায়নি ইউনিয়ন পরিষদের পুরোনো প্রশাসনিক ভবনের ঠিকানা। জন্মলগ্ন থেকেই নিজস্ব প্রশাসনিক ভবন না থাকায় অদ্ভুত এক প্রশাসনিক জটিলতার মধ্যে চলছে আজমিরীগঞ্জ পৌরসভার কার্যক্রম। পৌরসভার সীমানার ভেতর নিজস্ব ভবনে কার্যক্রম পরিচালনা করছে ইউনিয়ন পরিষদ। অন্যদিকে, যে ইউনিয়নকে বিভক্ত করে পৌরসভা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, সেই পৌরসভাকেই দিনের পর দিন কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে ভাড়া নেওয়া একটি পরিত্যক্ত গুদাম ভবনে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৪ সালের ২১ জানুয়ারি আজমিরীগঞ্জ সদর ইউনিয়নকে বিভক্ত করে এর প্রায় অর্ধেক অংশ নিয়ে গঠন করা হয় আজমিরীগঞ্জ পৌরসভা। অবশিষ্ট অংশ নিয়ে বহাল রাখা হয় ১ নম্বর সদর ইউনিয়ন পরিষদ। তবে ইউনিয়ন বিভক্তির সময় মূল প্রশাসনিক ভবনটি অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়নি। ফলে পুরোনো ওই ভবনটি বর্তমানে আজমিরীগঞ্জ পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদর বাজার এলাকায় পৌরসভার ভৌগোলিক সীমানার মধ্যেই রয়েছে।

ওই ভবনে নিয়মিতভাবে ১ নম্বর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সচিব বসে দাফতরিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। অথচ ভবনটি পৌরসভার সীমানার মধ্যে হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক জটিলতা বিরাজ করছে।

অন্যদিকে, পৌরসভা প্রতিষ্ঠার পর নিজস্ব কার্যালয় নির্মাণ না হওয়ায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের (বিআরডিবি) একটি পরিত্যক্ত গুদাম মাসিক ছয় হাজার টাকা ভাড়ায় নেয় পৌর কর্তৃপক্ষ। পরবর্তী সময়ে গুদামটি সংস্কার করে কয়েকটি কক্ষ তৈরি করে সেখানেই পৌরসভার দাফতরিক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। তবে দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে ভবনটি বর্তমানে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, একটি পৌরসভা প্রতিষ্ঠার ২২ বছর পরও নিজস্ব প্রশাসনিক ভবন না থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া ভবনে পৌরসভার কার্যক্রম পরিচালনার কারণে সরকারি অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি নাগরিক সেবার পরিবেশও ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে পৌরসভার সীমানার মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদের পুরোনো প্রশাসনিক ভবন ব্যবহারের বিষয়টিও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাপনায় এক ধরনের বৈপরীত্য তৈরি করেছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, ১ নম্বর সদর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক ভবনের বর্তমান অবস্থান ও ব্যবহার নিয়ে দীর্ঘদিনের জটিলতার অবসান ঘটাতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে আজমিরীগঞ্জ পৌরসভার জন্য দ্রুত একটি আধুনিক ও স্থায়ী প্রশাসনিক ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে আজমিরীগঞ্জ পৌরসভার উপসহকারী প্রকৌশলী আরমান হাফিজ বলেন, “ইউনিয়ন পরিষদ ভবনটি ব্যবহারের জন্য পৌরসভার কাছ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি। এ জন্য পৌরসভাকে কোনো ভাড়াও দেওয়া হচ্ছে না।”