প্রকাশিত: ০১ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:৫৬ (শুক্রবার)
জাকার্তায় গোলের বন্যায় ভেসে গেল বাংলাদেশ

ছবি: সংগৃহীত

জাকার্তায় বাংলাদেশের জন্য রাতটা ছিল দুঃস্বপ্নের। স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার আক্রমণের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি লাল-সবুজের রক্ষণ।
 

গেলোরা বুং কার্নো স্টেডিয়ামে ৯-২ গোলে হেরে ফিফা এশিয়ান কাপের পথ শেষ করেছে বাংলাদেশ।

ম্যাচের শুরু থেকেই বাংলাদেশের ওপর চেপে বসে ইন্দোনেশিয়া। ১১ মিনিটেই গোলের খাতা খোলেন মিচেল লি বাকের। রোমেনি ওলের কাটব্যাক থেকে বল পেয়ে লক্ষ্যভেদ করেন তিনি। ২০ মিনিটে আবারও গোল করেন লি বাকের। এবার তাঁর দৃষ্টিনন্দন ব্যাকহিল শটে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। ৩২ মিনিটে ব্যবধান আরও বাড়ান রিজকি রিধো। ততক্ষণে ৩-০ গোলে এগিয়ে ইন্দোনেশিয়া।
 

বাংলাদেশের রক্ষণভাগ তখন পুরোপুরি ছন্নছাড়া। গোলরক্ষক মেহেদী হাসান শ্রাবণ দুটি ভালো সেভ করে দলকে আরও বিপদ থেকে বাঁচান। তবে ২৭ মিনিটে শমিত সোম চোট পেয়ে মাঠ ছাড়ায় বাংলাদেশের সমস্যা বাড়ে। তার বদলে মাঠে নামেন সোহেল রানা।

৩৬ মিনিটে আচমকাই ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেয় বাংলাদেশ। সোহেল রানার লম্বা পাস ধরে বাঁ প্রান্ত দিয়ে আক্রমণে ওঠেন শুকি ইতোফুসা। তাঁর নিখুঁত ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে গোল করেন শাহরিয়ার ইমন। চলতি আসরে এটিই বাংলাদেশের প্রথম গোল। কিন্তু এক মিনিট পরই আবার ধাক্কা। নিজের হ্যাটট্রিক পূরণ করেন লি বাকের।

৪২ মিনিটে ব্যক্তিগত চতুর্থ গোলও করেন ইন্দোনেশিয়ার এই ফরোয়ার্ড। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে গোল করেন জাস্টিন হুবনার।

৬-১ গোলে পিছিয়ে বিরতিতে যায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয়ার্ধে জোড়া পরিবর্তন আনেন কোচ থমাস ডুলি। শুকি ইতোফুসা ও শাহরিয়ার ইমনের বদলে মাঠে নামেন ফারহান আলী ওয়াহিদ ও মিনহাজুল করিম স্বাধীন। কিন্তু চোট বাংলাদেশের পিছু ছাড়েনি। ৭৩ মিনিটে চোট নিয়ে মাঠ ছাড়েন স্বাধীন। তাঁর জায়গায় নামেন শাকিল আহাদ তপু।

দ্বিতীয়ার্ধের বড় সময়টায় বাংলাদেশকে টিকিয়ে রাখেন শ্রাবণ। একাধিক দুর্দান্ত সেভ করেন এই গোলরক্ষক। এর মধ্যে রোমেনি ওলের একটি গোল অফসাইডে বাতিল হয়। তবু শেষ রক্ষা হয়নি। ম্যাচের শেষ দিকে আবারও গোলের বন্যা বইয়ে দেয় ইন্দোনেশিয়া। ততক্ষণে অন্য ম্যাচের ফলও ফাইনালের সমীকরণে নাটকীয়তা তৈরি করেছে। সিঙ্গাপুরকে ৬-০ গোলে হারিয়ে ৭ পয়েন্টে এগিয়ে ছিল মালয়েশিয়া।

ফাইনালে যেতে ইন্দোনেশিয়ার প্রয়োজন ছিল আরও তিন গোল। ৯০ মিনিটে সেই সমীকরণে ফিরে আসে স্বাগতিকরা। এরপর যোগ করা সাত মিনিটে আসে আরও দুই গোল। অবিশ্বাস্য নাটকীয়তায় ৯-২ গোলের জয় নিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে ইন্দোনেশিয়া।

এই গোলবন্যার মাঝেও বাংলাদেশের হয়ে আরেকটি গোল করেন ফারহান। ইনজুরি সময়ের প্রথম মিনিটে রাকিবের ক্রস থেকে ব্যবধান কমান তিনি। শেষ পর্যন্ত ৯-২ গোলে হারে বাংলাদেশ। তবে ইমন ও ফারহানের গোল দুটি বড় লজ্জা থেকে বাঁচিয়েছে দলকে।

বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ব্যবধানে হারের রেকর্ড ৯-০ গোলের। ১৯৭৯ সালে দক্ষিণ কোরিয়া এবং ১৯৮২ সালে ইরানের বিপক্ষে এই ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ। জাকার্তায় আরও দুই গোল না পেলে সেই পুরোনো রেকর্ডের সঙ্গেই আবার নাম জড়াত লাল-সবুজের।
 

গোলের ধারাবাহিকতা
১১ মিনিট: মিচেল লি বাকের, ইন্দোনেশিয়া ১-০
২০ মিনিট: মিচেল লি বাকের, ইন্দোনেশিয়া ২-০
৩২ মিনিট: রিজকি রিধো, ইন্দোনেশিয়া ৩-০
৩৬ মিনিট: শাহরিয়ার ইমন, বাংলাদেশ ৩-১
৩৭ মিনিট: মিচেল লি বাকের, ইন্দোনেশিয়া ৪-১
৪২ মিনিট: মিচেল লি বাকের, ইন্দোনেশিয়া ৫-১
৪৫+ মিনিট: জাস্টিন হুবনার, ইন্দোনেশিয়া ৬-১
৯০ মিনিট: ইন্দোনেশিয়া ৭-১
৯০+ মিনিট: ফারহান আলী ওয়াহিদ, বাংলাদেশ ৭-২
৯০+ মিনিট: ইন্দোনেশিয়া ৮-২
৯০+ মিনিট: ইন্দোনেশিয়া ৯-২