সিলেট নগরীর কদমতলী দরিয়াশাহ মাজার সড়কসংলগ্ন সুরমা নদীর তীরে মোবাইল ও ইলেকট্রনিক পণ্যের পরিত্যক্ত সামগ্রীসহ বিভিন্ন ধরনের অপচনশীল বর্জ্য ফেলার অভিযোগ উঠেছে। নদীর তীরে এসব বর্জ্য জমে থাকায় পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি নদীতীরের স্বাভাবিক পরিবেশও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
নদীর তীরে বর্জ্য না ফেলতে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সতর্ক করেছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে কদমতলী এলাকার সুরমা নদীর তীর পরিদর্শনে গিয়ে তিনি ব্যবসায়ীদের এ সতর্কবার্তা দেন।
পরিদর্শনকালে নদীর তীরে ফেলে রাখা মোবাইল ও ইলেকট্রনিক পণ্যের পরিত্যক্ত সামগ্রীসহ বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য দেখতে পান সিসিক প্রশাসক। এ সময় সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের নদীর তীরে বর্জ্য না ফেলার বিষয়ে সতর্ক করা হয়।
আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, নদীর তীর, ছড়া কিংবা ড্রেনে বর্জ্য ফেলে পরিবেশ নষ্ট করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ভবিষ্যতে কেউ এসব স্থানে বর্জ্য ফেললে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, পরিবেশবান্ধব ও বাসযোগ্য ‘গ্রিন নগরী’ গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে সিটি করপোরেশন কাজ করছে। কিন্তু যত্রতত্র বর্জ্য ফেলার কারণে সেই লক্ষ্য বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে পলিথিন ও অন্যান্য অপচনশীল বর্জ্য নদী, ছড়া ও ড্রেনে ফেলার কারণে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। এতে জনস্বাস্থ্যও হুমকির মুখে পড়ছে।
ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বর্জ্য নির্ধারিত স্থানে ফেলার আহ্বান জানিয়ে সিসিক প্রশাসক বলেন, শুধু সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ে তোলা সম্ভব নয়। এ জন্য ব্যবসায়ীসহ নগরের সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে।
তিনি আরও বলেন, নগরবাসীর জন্য পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও বাসযোগ্য নগরী গড়ে তোলা এবং সর্বোচ্চ নাগরিকসেবা নিশ্চিত করাই সিসিকের লক্ষ্য। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে নগরবাসীর সহযোগিতা প্রয়োজন।
এদিকে পরিদর্শনের সময় শাহজালাল সেতুর পাশে থাকা একটি খালি জায়গা নিয়েও কথা বলেন সিসিক প্রশাসক। তিনি জানান, ওই জায়গায় একটি ফুটসাল মাঠ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে এলাকার শিশু-কিশোর ও তরুণদের খেলাধুলার সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি অব্যবহৃত জায়গাটি জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহার করা সম্ভব হবে।
পরিদর্শনকালে সিসিকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ একলিম আবদীন, ২৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আক্তার রশীদ চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.