প্রকাশিত: ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৪:৪৭ (বৃহস্পতিবার)
সন্তানকে নেক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে

ছবি সংগৃহীত :

শিশুরা আল্লাহপ্রদত্ত শ্রেষ্ঠ নিয়ামত। পবিত্র কোরআনে সন্তানকে পার্থিব জীবনের সৌন্দর্য ও সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

 

তাদের সুশিক্ষা ও সুন্দর পরিবেশে ছোটবেলা থেকেই গড়ে তুলতে পারলে মৃত্যুর পরও মা-বাবা এর সুফল পেতে পারেন।
রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যখন কোনো মানুষ মারা যায়, তখন তার সব আমল বন্ধ হয়ে যায়।

তবে তিন ধরনের আমল জারি থাকে-সদকায়ে জারিয়া, এমন জ্ঞান যার মাধ্যমে মানুষ উপকৃত হয় এবং নেক সন্তান, যে তার জন্য দোয়া করে।’ (নাসায়ি, হাদিস: ৩৬৫১)
অর্থাৎ নেক সন্তান মা-বাবার অন্যতম শ্রেষ্ঠ অর্জন।

তবে সন্তানকে নেক ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে ছোটবেলা থেকেই মা-বাবাকে সচেতন হতে হবে। এ ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া যেতে পারে।

গুনাহমুক্ত পরিবেশ
শিশুকে নেক সন্তান হিসেবে গড়ে তুলতে ছোটবেলা থেকেই তার প্রতি যত্নবান হতে হবে। তার মানসিক বিকাশের দিকে নজর দিতে হবে এবং পবিত্র ও গুনাহমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

শিশুর বেড়ে ওঠায় পারিপার্শ্বিক পরিবেশের বড় প্রভাব রয়েছে। তাই তার সামনে অসৌজন্যমূলক কথা বলা, অশোভন আচরণ করা বা অনৈতিক কোনো কাজ করা থেকে মা-বাবাকে বিরত থাকতে হবে।

পরিচ্ছন্নতা শেখানো
ছোটবেলা থেকেই শিশুকে পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে সচেতন করে তুলতে হবে। মানুষের মানসিক ও শারীরিক সুস্থতার জন্য পরিচ্ছন্নতা গুরুত্বপূর্ণ। তাই শিশুকে নিয়মিত গোসল, হাত-পা পরিষ্কার রাখা, পরিপাটি পোশাক পরা এবং নিজের জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখার অভ্যাস করাতে হবে।

শিশুকে ছোট মনে করে অপরিচ্ছন্নভাবে লালন-পালন করা উচিত নয়। পরিচ্ছন্নতা ও পরিপাটিও তার ব্যক্তিত্ব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সৃজনশীল খেলনার ব্যবস্থা
শিশুর খেলনা হতে হবে তার বয়স ও মানসিক বিকাশের উপযোগী। আবিষ্কারধর্মী ও সৃজনশীল খেলনা শিশুর চিন্তাশক্তি বাড়াতে সহায়তা করে। ঘরে ও বাইরে খেলা যায়—এমন খেলনা শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশেও ভূমিকা রাখে।

তাই শিশুকে এমন খেলনা দেওয়া উচিত, যা তার বুদ্ধি ও সৃজনশীলতা বাড়াতে সাহায্য করে। ইসলামের দৃষ্টিতে নিষিদ্ধ খেলনা থেকেও বিরত থাকতে হবে।

ভিডিও গেম ও কার্টুনে আসক্তি এড়ানো
শিশুকে অতিরিক্ত ভিডিও গেম ও কার্টুন দেখার অভ্যাস থেকে দূরে রাখা উচিত। দীর্ঘ সময় স্ক্রিনে থাকলে শিশুর স্বাভাবিক জীবনযাপন, ঘুম ও সামাজিক যোগাযোগে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

অনেক শিশু কার্টুন না দেখলে খাবার খেতে চায় না। এ ধরনের অভ্যাস তৈরি না করে তাকে প্রকৃতি, পাখি-পশু বা সৃজনশীল খেলাধুলার মাধ্যমে আনন্দ দেওয়ার চেষ্টা করা যেতে পারে।

দ্বীনি ইলম শিক্ষা
সন্তানকে প্রয়োজনীয় দ্বীনি জ্ঞান শিক্ষা দেওয়া মা-বাবার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। পবিত্রতা, নামাজ, কোরআন শিক্ষা ও প্রয়োজনীয় মাসআলা-মাসায়েল ছোটবেলা থেকেই শেখাতে হবে।

পাশাপাশি বয়স ও বোঝার ক্ষমতা অনুযায়ী বিভিন্ন গুনাহ ও অনৈতিক কাজ সম্পর্কে সন্তানকে সতর্ক করতে হবে। ধর্মীয় শিক্ষা যেন শুধু মুখস্থনির্ভর না হয়ে তার দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে ওঠে, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।

নামাজে অভ্যস্ত করা
শৈশব থেকেই সন্তানকে নামাজের প্রতি অভ্যস্ত করে তুলতে হবে। ছোটবেলায় নামাজের অভ্যাস গড়ে উঠলে বড় হওয়ার পরও তা ধরে রাখা সহজ হয়।

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, ‘তোমরা সন্তানদের নামাজের প্রতি যত্নবান হও এবং তাদের ভালো কাজে অভ্যস্ত করো। কেননা কল্যাণ লাভ অভ্যাসের ব্যাপার।’ (সুনানে বায়হাকি, হাদিস: ৫০৯৪)

বই পড়ায় উৎসাহ দেওয়া
বই পড়ার অভ্যাস শিশুর চিন্তা ও কল্পনাশক্তির বিকাশে সহায়তা করে। শিশুরা গল্প শুনতে পছন্দ করে। তাই তাদের নবী-রাসুল ও সাহাবিদের জীবনের শিক্ষণীয় ঘটনা এবং বয়স উপযোগী ইসলামি গল্পের বই পড়তে দেওয়া যেতে পারে।

বই পড়ার মাধ্যমে শিশুর ভাষাজ্ঞান ও ভাব প্রকাশের ক্ষমতা বাড়ে। একই সঙ্গে নতুন শব্দ ও বাক্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার কারণে তার পড়াশোনার প্রতিও আগ্রহ তৈরি হয়।

সন্তান আল্লাহর দেওয়া আমানত। তাই ভালোবাসা, শাসন, শিক্ষা ও সুন্দর পরিবেশের সমন্বয়ে প্রতিটি শিশুকে আদর্শ ও নৈতিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করা মা-বাবার দায়িত্ব। প্রতিটি শিশু নেক ও সোনার মানুষ হয়ে উঠুক-এটাই প্রত্যাশা।