দূষণমুক্ত, পরিচ্ছন্ন ও সবুজ নগর গড়ে তুলতে শিক্ষার্থীদের সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। তিনি বলেছেন, সচেতন শিক্ষার্থীরা নিজেরা পরিবেশবান্ধব আচরণে অভ্যস্ত হওয়ার পাশাপাশি পরিবার ও সমাজকেও পরিবেশ রক্ষায় সচেতন করতে পারে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে সিলেট সরকারি অগ্রগামী বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজ ক্যাম্পাসে ‘জিওসাইকেল সপ্তাহ ২০২৬’ উপলক্ষে প্লাস্টিক দূষণ রোধে আয়োজিত দেয়াল লিখন প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সিলেট সিটি কর্পোরেশন ও লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, “আমরা দূষণমুক্ত, পরিচ্ছন্ন ও গ্রিন নগরী গড়ে তুলতে চাই। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগের পাশাপাশি নগরবাসীর সহযোগিতাও প্রয়োজন। বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।”
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে পরিবেশ সম্পর্কে যা শিখবে ও চর্চা করবে, তা নিজেদের পরিবারেও প্রয়োগ করতে পারবে। এর ফলে পরিবারের সদস্য ও অভিভাবকরাও পরিবেশ সুরক্ষায় সচেতন হবেন।
সিসিক প্রশাসক আরও বলেন, আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব নগর প্রতিষ্ঠার জন্য প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের পরিবেশ সচেতনতা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন। পর্যায়ক্রমে নগরীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে শিক্ষার্থীদের পরিবেশ সচেতনতা ও সৃজনশীল উদ্যোগকে উৎসাহিত করা হবে।
তিনি বলেন, “সিলেট সরকারি অগ্রগামী বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজের মতো প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ বিষয়ে সচেতনতা তৈরির এই উদ্যোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে। দেয়াল লিখন প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও পরিবেশবান্ধব বিভিন্ন ধারণা তুলে ধরেছে। এসব ধারণা আমরা সংরক্ষণ করব এবং বাস্তবায়নের সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করব।”
আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী জানান, সিসিক ও লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের সহযোগিতায় পর্যায়ক্রমে অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদেরও এ উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। পলিথিন, বর্জ্য ও দূষণমুক্ত পরিচ্ছন্ন সিলেট নগর গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার। আরও বক্তব্য দেন সিসিকের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ একলিম আবদীন, পরিবেশকর্মী ও নাগরিক আন্দোলনের সংগঠক আব্দুল করিম কিম, লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ পিএলসির হেড অব জিওসাইকেল মো. লতিফুর রহমান, বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার তামরিন চৌধুরী এবং সিলেট সরকারি অগ্রগামী বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জায়েদা গুলশান সিদ্দিকা ও সহকারী প্রধান শিক্ষক লায়লা নার্গিস।
অনুষ্ঠানের শুরুতে সিসিক প্রশাসক শিক্ষার্থীদের প্লাস্টিক দূষণবিরোধী দেয়াল লিখন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। পরে প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.