প্রকাশিত: ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৩:০০ (বুধবার)
যুক্তরাষ্ট্রে স্টুডেন্ট ভিসা, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারভিউ—যেভাবে প্রস্তুতি নেবেন

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখেন অনেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পাশাপাশি স্টুডেন্ট ভিসার জন্যও ধাপে ধাপে প্রস্তুতি নিতে হয়। বিশ্ববিদ্যালয় বাছাই, আবেদন, ভর্তি নিশ্চিত করা, আই-২০ সংগ্রহ, সেভিস ফি দেওয়া, ডিএস-১৬০ পূরণ এবং ভিসা ইন্টারভিউ—প্রতিটি ধাপেই প্রয়োজন সঠিক তথ্য ও প্রস্তুতি।

বিশ্ববিদ্যালয় বাছাইয়ে সময় দিন

যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে অন্তত ১২ থেকে ১৮ মাস আগে থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ও বিষয় নিয়ে গবেষণা শুরু করা ভালো। কোন বিষয়ে পড়বেন, ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার পরিকল্পনা কী, শিক্ষার খরচ কত, বৃত্তির সুযোগ আছে কি না এবং কোথায় থাকতে চান—এসব বিষয় বিবেচনা করে বিশ্ববিদ্যালয় বাছাই করতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগের এডুকেশনইউএসএ বলছে, কোনো একটি বিশ্ববিদ্যালয় সবার জন্য সেরা নয়। শিক্ষার্থীর একাডেমিক, আর্থিক ও ব্যক্তিগত প্রয়োজনের সঙ্গে যে প্রতিষ্ঠান সবচেয়ে ভালোভাবে মেলে, সেটিই তার জন্য উপযুক্ত। যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য কোনো সরকারি একক র‌্যাঙ্কিং ব্যবস্থাও নেই।

বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন

বিশ্ববিদ্যালয় বাছাইয়ের পর শুরু হবে আবেদন প্রক্রিয়া। সাধারণত শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ ও নম্বরপত্র, প্রয়োজনীয় পরীক্ষার ফল, ইংরেজি ভাষার দক্ষতার প্রমাণ, সুপারিশপত্র, ব্যক্তিগত প্রবন্ধ, জীবনবৃত্তান্ত এবং প্রয়োজন অনুযায়ী গবেষণাসংক্রান্ত কাগজপত্র জমা দিতে হয়।

তবে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে কী কী কাগজপত্র লাগবে, তা প্রতিষ্ঠান ও বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি-সংক্রান্ত শর্ত ভালোভাবে দেখে নেওয়া জরুরি।

ভর্তি নিশ্চিত হলে আই-২০

বিশ্ববিদ্যালয় আবেদন গ্রহণ করলে শিক্ষার্থীকে ভর্তি নিশ্চিত করার পরবর্তী প্রক্রিয়ায় যেতে হয়। যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটি অবশ্যই শিক্ষার্থী ও বিনিময় দর্শনার্থী কর্মসূচির অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান হতে হবে।

ভর্তি গ্রহণের পর শিক্ষার্থীকে সেভিসে নিবন্ধন করা হয় এবং নির্ধারিত ফি দিতে হয়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আই-২০ দেওয়া হয়। এই আই-২০ স্টুডেন্ট ভিসার আবেদনের গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র এবং ভিসা ইন্টারভিউয়ের সময় এটি দেখাতে হয়।

সেভিস ফি দিতে হবে

এফ বা এম শ্রেণির স্টুডেন্ট ভিসার আবেদনকারীদের জন্য সেভিসের আই-৯০১ ফি বর্তমানে ৩৫০ মার্কিন ডলার। এই ফি ভিসা আবেদনের ফি থেকে আলাদা।

ডিএস-১৬০ পূরণ

এরপর অনলাইনে ডিএস-১৬০ ফরম পূরণ করতে হবে। এখানে ব্যক্তিগত তথ্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পড়াশোনার পরিকল্পনা ও ভ্রমণসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য দিতে হয়।

ডিএস-১৬০-এর তথ্য নির্ভুল ও সম্পূর্ণভাবে পূরণ করা গুরুত্বপূর্ণ। ফরম জমা দেওয়ার পর এর নিশ্চিতকরণ পৃষ্ঠাটি সংরক্ষণ করে রাখতে হবে এবং ভিসা ইন্টারভিউয়ের সময় সেটি সঙ্গে নিতে হবে। শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে আই-২০তে থাকা সেভিস নম্বর ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য ডিএস-১৬০ পূরণের সময় প্রয়োজন হতে পারে।

স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন ফি

স্টুডেন্ট ভিসাসহ এফ ও এম শ্রেণির অ-অভিবাসী ভিসার আবেদন প্রক্রিয়াকরণ ফি বর্তমানে ১৮৫ মার্কিন ডলার। এই ফি ফেরতযোগ্য নয়।

এরপর ভিসা ইন্টারভিউয়ের জন্য সময় নিতে হবে। সাক্ষাৎকারের সময় স্থান ও ভিসার ধরন অনুযায়ী অপেক্ষার সময় পরিবর্তিত হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর তথ্য অনুযায়ী, ঢাকায় এফ, এম ও জে শ্রেণির ভিসার পরবর্তী সাক্ষাৎকারের সময় পেতে অপেক্ষা অর্ধ মাসের কম দেখানো হয়েছে। তবে এই সময় নিয়মিত পরিবর্তিত হয়।

ভিসা ইন্টারভিউয়ের আগে যেসব কাগজপত্র প্রস্তুত রাখবেন

ভিসা ইন্টারভিউয়ের আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গুছিয়ে রাখতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে—

* বৈধ পাসপোর্ট
* ডিএস-১৬০-এর নিশ্চিতকরণ পৃষ্ঠা
* ভিসা আবেদন ফি দেওয়ার প্রমাণ
* আই-২০
* সেভিস ফি দেওয়ার প্রমাণ
* শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ ও নম্বরপত্র
* প্রয়োজনীয় পরীক্ষার ফল
* পড়াশোনার খরচ বহনের সক্ষমতার প্রমাণ
* প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য সহায়ক কাগজপত্র
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ভিসা ইন্টারভিউয়ের সময় আবেদনকারীর শিক্ষাগত প্রস্তুতি, যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার খরচ কীভাবে বহন করবেন এবং পড়াশোনা শেষে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরে যাওয়ার অভিপ্রায় সম্পর্কে অতিরিক্ত প্রমাণ চাওয়া হতে পারে।

ভিসা ইন্টারভিউতে কী জানতে চাওয়া হতে পারে

ভিসা ইন্টারভিউতে মূলত শিক্ষার্থীর পড়াশোনার পরিকল্পনা, কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে ও কোন বিষয়ে পড়বেন, কেন ওই বিষয়টি বেছে নিয়েছেন, পড়াশোনার খরচ কীভাবে বহন করবেন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী—এসব বিষয়ে প্রশ্ন আসতে পারে।

তাই মুখস্থ করা উত্তর না দিয়ে নিজের পড়াশোনা, বিশ্ববিদ্যালয়, বিষয় এবং আর্থিক পরিকল্পনা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখা জরুরি। ডিএস-১৬০, আই-২০ এবং অন্যান্য কাগজপত্রে দেওয়া তথ্যের সঙ্গে সাক্ষাৎকারের উত্তরের সামঞ্জস্য থাকা গুরুত্বপূর্ণ।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া বা আই-২০ পাওয়া মানেই স্টুডেন্ট ভিসা নিশ্চিত হওয়া নয়। ভিসা ইন্টারভিউয়ের মাধ্যমে কনস্যুলার কর্মকর্তা আবেদনকারীর যোগ্যতা যাচাই করেন এবং ভিসা দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন।

শেষ মুহূর্তে নয়, আগে থেকেই প্রস্তুতি

যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার পুরো প্রক্রিয়াটি তাই কয়েকটি ধাপে ভাগ করা যায়—বিশ্ববিদ্যালয় ও বিষয় বাছাই, আবেদন, ভর্তি নিশ্চিত করা, আই-২০ সংগ্রহ, সেভিস ফি দেওয়া, ডিএস-১৬০ পূরণ, ভিসা আবেদন ফি দেওয়া এবং সবশেষে ভিসা ইন্টারভিউ।

বিশ্ববিদ্যালয় বাছাই থেকে ভিসা ইন্টারভিউ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে তথ্যের নির্ভুলতা ও সময়মতো প্রস্তুতি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ভিসা ইন্টারভিউয়ের সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে রাখা এবং নিজের শিক্ষাগত ও আর্থিক পরিকল্পনা স্পষ্টভাবে তুলে ধরার প্রস্তুতি আগে থেকেই নেওয়া উচিত।