ছবি: সংগৃহীত
চোখের সামনে হঠাৎ অন্ধকার বা কালো বা ধূসর ছায়া দেখা, কিংবা দৃষ্টির কোনো অংশ পর্দার মতো অন্ধকার হয়ে আসাকে অনেকেই সাময়িক সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যান। কিন্তু এমন লক্ষণ কখনো কখনো গুরুতর চোখের সমস্যার সতর্কসংকেত হতে পারে। বিশেষ করে দৃষ্টির পাশের অংশ থেকে যদি এমন ছায়া বা পর্দার মতো অন্ধকার দেখা শুরু হয়, তাহলে দ্রুত চোখ পরীক্ষা করানো জরুরি।
কীভাবে দেখা যায় এই লক্ষণ
চোখের সামনে কালো, ধূসর বা ঝাপসা কোনো অংশ দেখা দিতে পারে। কখনো মনে হতে পারে দৃষ্টির একটি অংশ অন্ধকার পর্দায় ঢেকে গেছে। এটি সাধারণত চোখের পাশের দৃষ্টিতে শুরু হলেও যেকোনো দিক থেকে দেখা দিতে পারে। এক চোখে বা একই সময়ে দুই চোখেও এমন সমস্যা হতে পারে।
চোখের পর্দা সরে যেতে পারে
এ ধরনের লক্ষণের একটি গুরুতর কারণ হতে পারে চোখের ভেতরের আলো-সংবেদনশীল পর্দা, অর্থাৎ রেটিনা ছিঁড়ে যাওয়া বা সরে যাওয়া। রেটিনা চোখের পেছনের অংশে থাকা গুরুত্বপূর্ণ স্তর, যা দৃষ্টির জন্য প্রয়োজনীয়। রেটিনা সরে গেলে দ্রুত চিকিৎসা না নিলে ওই চোখের দৃষ্টিশক্তি স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
রেটিনা সরে যাওয়ার ক্ষেত্রে হঠাৎ আলোর ঝলক দেখা, চোখের সামনে নতুন করে অনেক কালো দাগ বা ভাসমান রেখা দেখা এবং দৃষ্টির পাশে ছায়া বা ধূসর পর্দার মতো কিছু দেখা দিতে পারে।
চোখের রক্তনালিতে বাধা
চোখের রক্তনালিতে রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হলেও দৃষ্টিতে অন্ধকার বা ছায়ার মতো পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। চোখের প্রধান ধমনি বা শিরায় বাধা তৈরি হলে দৃষ্টিশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এমন সমস্যার সঙ্গে শরীরের রক্তনালি ও হৃদ্যন্ত্রের কিছু সমস্যারও সম্পর্ক থাকতে পারে।
ঘাড়ের রক্তনালির সমস্যার সঙ্গেও সম্পর্ক থাকতে পারে
ঘাড়ের প্রধান রক্তনালিতে চর্বি বা অন্য কারণে বাধা তৈরি হলে চোখে রক্ত সরবরাহে সমস্যা হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে এটি ভবিষ্যতে মস্তিষ্কে রক্ত চলাচলের গুরুতর সমস্যার সতর্কসংকেতও হতে পারে। তাই হঠাৎ দৃষ্টির পরিবর্তনকে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
চোখে সংক্রমণ থেকেও হতে পারে
কিছু ভাইরাসের কারণে চোখের ভেতরের রেটিনায় সংক্রমণ হতে পারে। এমন সংক্রমণেও দৃষ্টিতে পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে যাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম, তাদের ক্ষেত্রে চোখের এমন লক্ষণ দ্রুত পরীক্ষা করা জরুরি।
হঠাৎ হলে অপেক্ষা নয়
দৃষ্টির সামনে হঠাৎ কালো বা ধূসর পর্দার মতো কিছু দেখা গেলে নিজে থেকে ভালো হয়ে যাবে—এমন ধারণা করা ঠিক নয়। রেটিনা সরে যাওয়ার মতো সমস্যা হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া দৃষ্টিশক্তি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে যত দ্রুত সম্ভব চক্ষু বিশেষজ্ঞের কাছে গিয়ে পূর্ণাঙ্গ চোখ পরীক্ষা করানো উচিত।
চোখের অনেক রোগের শুরুতে স্পষ্ট কোনো লক্ষণ নাও থাকতে পারে। আবার কেউ কেউ দৃষ্টিশক্তির পরিবর্তনকে বয়স বাড়ার স্বাভাবিক অংশ ভেবে উপেক্ষা করেন। তাই অস্বাভাবিক কোনো দৃষ্টির পরিবর্তন দেখা দিলে গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শে পরীক্ষা করানোই নিরাপদ।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.