হবিগঞ্জের বাহুবলে ছায়েদ আলী হত্যা মামলার এজাহারনামীয় এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-৯।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানাধীন লস্করপুর রেলক্রসিং এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামির নাম ইসমাইল মিয়া (৩৫)। তিনি বাহুবল থানার সুতিন গ্রামের আজগর আলীর ছেলে। এসআরবি-৯-এর সিপিসি-৩, শায়েস্তাগঞ্জ ক্যাম্পের একটি অভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।
এসআরবি-৯ জানায়, নিহত ছায়েদ আলী হবিগঞ্জের বাহুবল থানার পূর্ব রূপশংকর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি প্রায় ৭/৮ বছর ধরে সাতকাপন ইউনিয়নের হরহরিয়া এলাকায় জমি লিজ নিয়ে মুরগির খামার পরিচালনা করে আসছিলেন। খামারটি স্থানীয় কয়েকজনের বসতবাড়ির সংলগ্ন এলাকায় হওয়ায় খামার পরিচালনাকে কেন্দ্র করে তাদের সঙ্গে ছায়েদ আলীর বিরোধ চলছিল। একপর্যায়ে তাকে ওই এলাকা থেকে মুরগির খামার সরিয়ে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন সময় হুমকি দেওয়া হয়।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ আগস্ট ২০২৬ বিকেলে আসামি মাসুক মিয়া ছায়েদ আলীর মুরগির খামারে গিয়ে তার মোবাইল ফোন চার্জ দেওয়ার কথা বলেন। ছায়েদ আলী এতে আপত্তি জানালে মাসুক মিয়া বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি অন্য আসামিদের জানান। পরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ছায়েদ আলীর মুরগির খামারে প্রবেশ করে এবং তাকে এলোপাতাড়ি আঘাত করে গুরুতর আহত করে।
আহত অবস্থায় ছায়েদ আলী বাঁচার জন্য চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে এগিয়ে আসেন। এ সময় অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা ছায়েদ আলীকে উদ্ধার করে বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হবিগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠান। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় নিহতের চাচা বাদী হয়ে হবিগঞ্জের বাহুবল থানায় মামলা করেন। মামলাটি ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ দায়ের করা হয়। মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩/৪৪৮/৩২৩/৩২৫/৩০৭/৩০২/১১৪/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
এসআরবি-৯ জানায়, মামলার পর আসামিদের আইনের আওতায় আনতে ছায়া তদন্ত শুরু করে গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারনামীয় ১০ নম্বর পলাতক আসামি ইসমাইল মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়।
এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন এসআরবি-৯ -এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান,গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য হবিগঞ্জের বাহুবল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারে এসআরবি-৯-এর অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.