ছবি: সংগৃহীত
নড়াইলের নড়াগাতী থানাধীন কলাবাড়িয়া গ্রামে পূর্ব শত্রুতার জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও গুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছেন উভয় পক্ষের অন্তত ১১ জন।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার কলাবাড়িয়া ইউনিয়নের চড়কান্দিপাড়া এলাকায় এ সহিংসতার সূত্রপাত হয়।
ঘটনার পর নড়াগাতী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বর্তমানে নতুন করে সংঘর্ষ এড়াতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কলাবাড়িয়া এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় ইউপি (ইউনিয়ন পরিষদ) সদস্য সোহেল রানা গ্রুপ এবং আবেদ শেখ গ্রুপের মধ্যে চরম উত্তেজনা চলছিল।
এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার সকালে উভয় পক্ষ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষের সময় প্রতিপক্ষের ছোড়া গুলিতে ও দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে রাসেল শেখ, হাসান, মতি মল্লিক, সেলিম শেখ, রাজিব গাজী, কালন শেখ এবং ইস্রাফিল সিকদারসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১১ জন আহত হন।
স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে কালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে বেশ কয়েকজনকে পরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
হামলার বিষয়ে উভয় পক্ষই একে অপরের ওপর দায় চাপাচ্ছে। আবেদ আলী গ্রুপের পক্ষে শামিম শেখ অভিযোগ করে বলেন, সকালে কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই সোহেল মেম্বারের নেতৃত্বে দেড় থেকে দুইশ সশস্ত্র লোক আমাদের বাড়িতে হামলা চালায়। তারা নির্বিচারে গুলি ছোড়ে। এতে আমাদের পক্ষের তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে সোহেল মেম্বার দাবি করেন, আমার লোকজন সকালে বাজারে অবস্থান করছিল। কোনো ধরনের উসকানি ছাড়াই আবেদ গ্রুপের লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে তাদের ওপর হামলা চালায় এবং গুলি ছুড়তে শুরু করে।
এ বিষয়ে নড়াগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হোসেন আলী জানান, দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও গুলির খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
ওসি আরও বলেন, অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে অভিযান চলছে।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.