ছবি: সংগৃহীত
সংসদ সদস্য গাজী নজরুলের সঙ্গে ১৯ বছরের মেয়ে মরিয়মের বিতর্কিত সম্পর্ক এবং শেষ পর্যন্ত এমপিপত্নী হিসেবে তার বাসভবনে মৃত্যু কোনভাবেই মেনে নিতে পারছেন না কিশোরীর বাবা মাসুম বিল্লাহ। মেয়েকে হারিয়ে কান্না থামছেই না অসহায় বাবার।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে তাকে দেখা গেছে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল মর্গের সামনে। ১৯ বছর ধরে কষ্টে লালন করা সন্তানের জন্য অপেক্ষা করছিলেন মাসুম বিল্লাহ দম্পতি। ক্ষণে ক্ষণে করে উঠছিলেন আর্তনাদ, আবার কখনো শান্ত ভঙ্গিতে কথা বলছিলেন সংবাদকর্মীদের সঙ্গে।
অনিচ্ছা স্বত্ত্বেও জামায়াতে ইসলামীর বিতর্কিত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের শ্বশুর হয়ে যাওয়া মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘আমি চাই সঠিক তদন্ত, আমি যেন ন্যায় বিচারটা পাই; প্রকৃত দোষী যেন শাস্তি পায়।’
আপনার সঙ্গে শেষ কী কথা হয়েছিল, মেয়ে কোনো কষ্টের কথা বলেছিল কি না, জানতে চাইলে অসহায় এই বাবা বলেন, ‘আমার সাথে কথা কম হতো, তবে এমপির সাথে সবসময় কথা হতো, তখন সে পাশে থাকতো। কথা বলতে চাইলে সে কথা বলতো না।’
এ ঘটনার জন্য নিজের শ্যালক ওবায়দুর রহমানকে দায়ী করে মাসুম বিল্লাহ বলেন, মরিয়ম বলতো, ‘আমি বাইরে মুখ দেখাব কীভাবে? সে আমার মামা, আমার এত বড় ক্ষতি করবে আমি বুঝতে পারিনি। আমাকে মাফ করে দেন, আমি বাপের থেকে তাকে বেশি বিশ্বাস করতাম। বিশ্বাস করে আজকে আমি ওই পরিণতি ভোগ করতেছি’।
মরিয়মের বাবা বলতে থাকেন, ‘মেয়ে এইসব বলতো আর আমার পা জড়িয়ে কাঁদতো। ওবায়দুলের কথা বলতো। ওরে খুব বিশ্বাস করে আজকে ওর এই পরিণতি। ওই ঘটনা না ঘটলে ওরে এমপি হোস্টেলে আইসা থাকা লাগে না, আর এই ঘটনাও ঘটে না।‘
মাসুম বিল্লাহর সঙ্গে আরও কথা বলতে গিয়ে জানা গেল, সংসদ সদস্য গাজী নজরুল তার আপন খালু। সেই হিসেবে গাজী নজরুল ছিলেন মরিয়মের দাদা।
বাবার খালুর সঙ্গে কী করে মেয়ে সম্পর্কে জড়াল, এমন প্রশ্নে মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘আমরা প্রথমে বুঝতে পারিনি। অনেক পরে জানতে পারছি। কিন্তু ওর মামার জন্য এভাবে সব শেষ হয়ে গেল।’
ন্যাম ভবনের ওই ফ্ল্যাটে পুলিশ মরিয়মের হাতে লেখা চিরকুট বলে যে কাগজগুলো উদ্ধারের কথা জানিয়েছে, সে বিষয়ে জানতে চাইলে তার বাবা মাসুম বলেন, ‘এগুলো ওর লেখা কি না, সেটা আমি বলতে পারছি না। আমি ওর লেখা চিনি না।’
উল্লেখ্য, রোববার সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের উল্টোদিকের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর রাতে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।
রাতেই আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, তার স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও নিহতের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ।
এ মামলায় ইতোমধ্যে গাজী নজরুল ইসলামকে চারদিনের ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে একদিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.