প্রকাশিত: ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:৫৮ (সোমবার)
সিলেটে হামে উদ্বেগ বাড়ছে, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ১৩৭

সিলেটে হামের পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৩৭ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৫৪১ জন। তবে এ সময়ে হাম বা সন্দেহভাজন হাম রোগে কারও মৃত্যু হয়নি।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৩৭ জন, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪৫ জন, মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ২৩ জন এবং কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আরও ২২ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।

বর্তমানে চিকিৎসাধীন ৫৪১ রোগীর মধ্যে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৯৩ জন এবং শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১৬৭ জন রয়েছেন। এছাড়া সিলেটের পার্কভিউ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৭ জন, রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০ জন এবং নর্থ ইস্ট মেডিকেল হাসপাতালে ১০ জন রোগী চিকিৎসাধীন আছেন।

১৭০ জনের মৃত্যু
স্বাস্থ্য বিভাগের জেলাভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, সন্দেহভাজন হাম রোগে সিলেট জেলায় এ পর্যন্ত ৬৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। হবিগঞ্জে ২০ জন, মৌলভীবাজারে ১৪ জন এবং সুনামগঞ্জে ৬৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

অন্যদিকে, নিশ্চিত হাম রোগে সিলেটে চারজন, হবিগঞ্জে চারজন, মৌলভীবাজারে একজন এবং সুনামগঞ্জে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

সব মিলিয়ে সিলেট বিভাগে সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত হাম রোগে এ পর্যন্ত ১৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সন্দেহভাজন হাম রোগে ১৬০ জন এবং নিশ্চিত হাম রোগে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

নিশ্চিত হাম রোগী ১ হাজার ৫৩ জন
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সিলেট বিভাগে ১ হাজার ৫৩ জনের শরীরে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সিলেট জেলায় ৩৮৫ জন, হবিগঞ্জে ১৫৩ জন, মৌলভীবাজারে ১৫৮ জন এবং সুনামগঞ্জে ৩৫৭ জন রয়েছেন।

তবে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে কোনো নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়নি।

হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ অব্যাহত থাকায় চিকিৎসাসেবা দিতে স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপরও চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ফলে হাসপাতাল দুটিতে হাম ও সন্দেহভাজন হাম রোগীদের চিকিৎসায় অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।