প্রকাশিত: ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:৪২ (মঙ্গলবার)
ছাতকে পুলিশ হেফাজত থেকে আ.লীগ নেতা উধাও, ওসির প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ

ছবি: সংগৃহীত

সুনামগঞ্জের ছাতকে পুলিশ হেফাজত থেকে আওয়ামী লীগ নেতা হাজী স্বপন মিয়া ‘উধাও’ হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমানকে প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন স্থানীয়রা।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ছাতক পৌর শহরে এ বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। পরে আয়োজিত সমাবেশে বক্তারা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ওসি মিজানুর রহমানকে প্রত্যাহারের দাবি জানান। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।

বিক্ষোভকারীরা জানান, রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে আওয়ামী লীগ নেতা হাজী স্বপন মিয়া সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে ছাতক শহরের তাহির প্লাজার সামনে আসেন। এ সময় স্থানীয় শতাধিক মানুষ সেখানে জড়ো হয়ে তাকে অটোরিকশা থেকে টেনেহিঁচড়ে নামিয়ে মারধর করেন।

পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে ছাতক থানার ওসি মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। বিক্ষুব্ধ জনতা হাজী স্বপন মিয়াকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পুলিশ তাকে প্রথমে চিকিৎসার জন্য ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য পুলিশি পাহারায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

তবে এরপর থেকে হাজী স্বপন মিয়ার গ্রেপ্তার বা অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। রোববার রাত থেকে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তার বিষয়ে একাধিকবার ওসির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য দেননি বলে দাবি করেন তারা। স্থানীয় সাংবাদিকরাও একাধিকবার ওসির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, হাজী স্বপন মিয়ার সঙ্গে ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমানের ব্যক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না থাকলেও ওসিকে নিয়মিত তার বাসায় যাতায়াত করতে দেখা গেছে বলেও দাবি করেন তারা। এ সম্পর্কের কারণেই হাজী স্বপন মিয়াকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন বিক্ষোভকারীরা।

স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেন, দোয়ারাবাজার উপজেলার আওয়ামী লীগ নেতা হাজী স্বপন মিয়া দীর্ঘদিন রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের মামলা ও হামলার মাধ্যমে হয়রানি, জমি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দখল, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল অর্থবিত্তের মালিক হয়েছেন।

তাদের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অনেক নেতাকর্মীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠালেও হাজী স্বপন মিয়া স্থানীয় পুলিশ-প্রশাসনের সঙ্গে যোগসাজশ করে আগের মতোই কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, জুলাইয়ের আন্দোলনের সময় ছাত্র-জনতাকে হত্যার হুমকি দেওয়া এই আওয়ামী লীগ নেতা বর্তমানে প্রকাশ্যে সীমান্তে চোরাচালান, টেন্ডারবাজি, নিজস্ব বাহিনী দিয়ে চাঁদাবাজি এবং জোরপূর্বক নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলনসহ বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন। এসব বিষয়ে একাধিকবার ছাতক থানার ওসি মিজানুর রহমানকে জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তারা।

তারা আরও বলেন, ওসি মিজানুর রহমান স্থানীয়দের কাছে বিভিন্ন সময় দাবি করতেন হাজী স্বপন মিয়া আত্মগোপনে থাকায় তাকে পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ তার সঙ্গে ওসির নিয়মিত যোগাযোগ এবং বাসায় যাতায়াত ছিল বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।

এদিকে হাজী স্বপন মিয়াকে পুলিশি নিরাপত্তায় ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে সিলেট নেওয়ার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ছবিতে পুলিশের সহযোগিতায় তাকে হাসপাতাল থেকে বের করে অ্যাম্বুলেন্সে তোলার দৃশ্য দেখা যায়।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওসি মিজানুর রহমানের কার্যালয়ে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। তার অফিসকক্ষ তালাবদ্ধ ছিল। পরে মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে হাজী স্বপন মিয়া গ্রেফতার হয়েছেন কি না বা তার বিরুদ্ধে আগের কোনো অভিযোগ রয়েছে কি না, সে বিষয়ে ওসির বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

বিক্ষোভ-পরবর্তী সমাবেশে বক্তব্য দেন ছাতক পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক কাউন্সিলর জসিমউদ্দীন সুমেন, পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জসিম উদ্দিন সালমান, ছাতক উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক বাকি বিল্লাহ এবং উপজেলা জাসাসের আহ্বায়ক আব্দুল আলীম।

এ সময় ছাতক পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য তানিমুল ইসলাম তানিম, সাবেক ছাতক পৌর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মুনেম মামনুন, পৌর যুবদলের সদস্য নোমান ইমদাদ কানন, সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও ছাতক উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব আব্দুল বাকী মুহিত, বিএনপি নেতা জাহির উদ্দিন দিনান, গোলাম দস্তগীর জীবন, ঝুমন আহমেদ, সোনা আলী, সিফাত, তানভীর, ঈদরাকসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।