ছবি: সংগৃহীত
ফিটনেস প্রেমীদের জন্য সুখবর! একটি ফিট শরীর অর্জনের সময়কাল শুধু কুড়ির কোঠাতেই সীমাবদ্ধ নয় বা এর জন্য কঠিন ব্যায়াম বা কঠোর ডায়েটেরও প্রয়োজন নেই। ফিটনেস বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন করা সহজতম ব্যায়ামই আপনার শারীরিক গঠন এবং স্বাস্থ্যকে সম্পূর্ণরূপে বদলে দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি ফিট শরীর মানেই হলো সেইসব কাজ করা যা আপনার জন্য সবচেয়ে ভালো কাজ করে। চলুন জেনে নেওয়া যাক-
১. প্রতিদিন হাঁটা
প্রতিদিন হাঁটুন। এটি আপনার শারীরিক প্রশিক্ষণ শুরু করার সবচেয়ে সহজ উপায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে উপেক্ষিত হলেও হাঁটা হলো চলাচলের সবচেয়ে সহজলভ্য মাধ্যমগুলোর মধ্যে একটি। এটি হৃদপিণ্ডের স্বাস্থ্য উন্নত করে, অস্থিসন্ধির সচলতা বাড়ায়, মেজাজ ভালো রাখে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
নিয়মিত হাঁটা বার্ধক্য-রোধক হিসেবেও কাজ করে। প্রথম দিনেই আপনার স্টেপ কাউন্ট পূরণ করতে হবে না, আপনার বর্তমান স্তর অনুযায়ী এটি করা শুরু করুন এবং তারপর ধীরে ধীরে পরিমাণ বাড়ান।
২. বার্ধক্য রোধে ওয়েট ট্রেনিং
পেশীর ক্ষয় এবং হাড়ের ঘনত্ব কমে যাওয়া বার্ধক্যেরই অংশ। কিন্তু এগুলো না-ও হতে পারে। স্ট্রেংথ ট্রেনিং বা ওয়েট ট্রেনিং গুরুত্বপূর্ণ। এটি সপ্তাহে অন্তত দুবার করা উচিত।
গবেষণায় দেখা গেছে যে স্ট্রেংথ ট্রেনিং পেশীর ভর, হাড়ের শক্তি এবং ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। এর ফলে আপনার মেটাবলিজম ভালোভাবে কাজ করবে, আপনার ভারসাম্য ভালো থাকবে এবং বয়সের সঙ্গে সঙ্গে আঘাত পাওয়ার সম্ভাবনা কমে যাবে। রেজিস্ট্যান্স ব্যান্ড ব্যবহার করে হোক বা ডাম্বেল দিয়ে হোক, ওয়েট ট্রেনিং এমন একটি কার্যকলাপ যা আপনার শরীরের জন্য জীবন পরিবর্তনকারী হতে পারে।
৩. খাদ্যতালিকায় প্রোটিনের উপর জোর দিন
ব্যায়াম এবং মানসিক চাপের প্রতি আপনার শরীর কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাবে, তার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো পুষ্টি। দিনে অন্তত দুটি উচ্চ প্রোটিনযুক্ত খাবার খান। পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রোটিন গ্রহণ পেশি মেরামত করতে, শরীরের চর্বির স্বাস্থ্যকর মাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং এমনকী আপনাকে দীর্ঘ সময়ের জন্য পেট ভরা রাখতে সহায়তা করে, যার ফলে অপ্রয়োজনীয় হালকা খাবার খাওয়া এবং অতিরিক্ত খাওয়া কমে যায়। এছাড়াও, প্রোটিন রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে।
৪. ঘরে তৈরি খাবারের ব্যবহার বাড়ান
দীর্ঘদিন ধরে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী থাকার জন্য ঘরে রান্না করা খাবার খাওয়া একটি দারুণ উপায়। বাড়িতে খাবার তৈরির ক্ষেত্রে উপকরণ, খাবারের পরিমাণ এবং রান্নার পদ্ধতির উপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকে, যা রেস্তোরাঁ বা প্যাকেটজাত খাবারের ক্ষেত্রে সম্ভব নয়।
ঘন ঘন বাইরে খাওয়ার অর্থ হলো অতিরিক্ত ক্যালোরি, লুকানো চিনি, অস্বাস্থ্যকর চর্বি এবং উপকরণের মান নিয়ে অনিশ্চয়তা। বাড়িতে রান্না করলে আপনি স্বাস্থ্য লক্ষ্য অনুযায়ী রেসিপি পরিবর্তন করতে পারবেন এবং ধীরে ধীরে স্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ সূচকগুলো উন্নত করতে পারেন।
৫. আপনার ঘুমের অভ্যাস ঠিক করুন
আধুনিক জীবনের ব্যস্ততার কারণে ঘুমের ধরণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ব্যাহত হয়। তবে শরীরকে নতুন রূপ দেওয়ার জন্য ভালোভাবে ঘুমানো অন্যতম সেরা উপায়। আপনার ঘুমের সমস্যা সমাধান করুন, তাড়াতাড়ি ঘুমাতে যান, তাহলেই আপনি অর্ধেক পথ এগিয়ে যাবেন।
প্রতি রাতে সাত ঘণ্টার বেশি ঘুমানো এবং একটি নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো ও ঘুম থেকে ওঠা পেশীর পুনর্গঠন, হরমোন নিয়ন্ত্রণ, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মানসিক স্বচ্ছতা বাড়াতে সাহায্য করে বলে জানা যায়।ঘুমানোর আগে অ্যালার্ম এবং একটি বাধ্যতামূলক ঘুমের রুটিন একটি শক্তিশালী শক্তি বর্ধক হতে পারে।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.