ছবি সংগৃহীত :
যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করার লক্ষ্যে লন্ডনে ‘ব্রিটিশ-বাংলাদেশ ট্রেড সেন্টার’ প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্রিটিশ বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (BBCCI)। চেম্বারের এ উদ্যোগকে দুই দেশের ব্যবসা, বিনিয়োগ ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত বিবিসিসিআই’র নবনির্বাচিত কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠানে এ সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেওয়া হয়। লন্ডনের আইভি হিল হোটেলে আয়োজিত ‘BBCCI Business Reception 2026’ অনুষ্ঠানে ট্রেড সেন্টার প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।
বিবিসিসিআই জানিয়েছে, প্রস্তাবিত ‘ব্রিটিশ-বাংলাদেশ ট্রেড সেন্টার’ বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে দুই দেশের বাজারে প্রবেশ বা ব্যবসা সম্প্রসারণে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে কাজ করবে ট্রেড সেন্টারটি।

বিবিসিসিআই’র ডিরেক্টর জেনারেল মুসলেহ আহমেদ বলেন, ট্রেড সেন্টার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ চেম্বারের কার্যক্রমকে প্রচলিত নেটওয়ার্কিংয়ের গণ্ডি ছাড়িয়ে ব্যবসার জন্য বাস্তব ও কার্যকর সুযোগ তৈরির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
তিনি বলেন, “ব্রিটিশ-বাংলাদেশ ট্রেড সেন্টারের লক্ষ্য হলো যোগাযোগকে বাণিজ্যে এবং আকাঙ্ক্ষাকে সুযোগে রূপান্তর করা। আমরা এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে চাই, যেখানে ব্রিটিশ ও বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা একে অপরের সঙ্গে পরিচিত হতে, অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে, নতুন বাজার অনুসন্ধান করতে এবং একসঙ্গে ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে পারবেন।”
বিবিসিসিআই’র প্রেসিডেন্ট মুহিব চৌধুরী বলেন, “ব্রিটিশ-বাংলাদেশ ট্রেড সেন্টার একটি আধুনিক ও উচ্চাভিলাষী চেম্বার গড়ে তোলার প্রতি আমাদের দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন, যা ব্যবসায়ীদের জন্য বহুমুখী সুযোগ সৃষ্টি করবে। ব্রিটেন ও বাংলাদেশের মধ্যে আরও শক্তিশালী বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে বিবিসিসিআই অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।”
তিনি আরও বলেন, প্রকল্পটি এগিয়ে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দুই দেশের ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী, সরকারি প্রতিনিধি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও কৌশলগত অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগ ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বিবিসিসিআই।

চেম্বারটির প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে এ উদ্যোগ যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের একটি স্বীকৃত কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হবে। এর মাধ্যমে উভয় দেশের ব্যবসায়ীরা শুধু নেটওয়ার্কিংয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তব ও অর্থবহ বাণিজ্যিক সম্পৃক্ততার সুযোগ পাবেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার ড. এম নজরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে বিবিসিসিআই’র বর্তমান কমিটির উপদেষ্টা ড. ওয়ালি তাসার উদ্দিন এমবিই, আহমদ উস সামাদ চৌধুরী জেপি, সাইদুর রহমান রেনু, সাবেক প্রেসিডেন্ট বশির আহমেদ বিইএম, সাবেক প্রেসিডেন্ট রফিক হায়দার, নর্থ ওয়েস্ট রিজিয়নের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিজান, লন্ডন রিজিয়নের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম, ডাইরেক্টর আতাহির খান, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জাজ নজরুল খসরু, নির্বাচন কমিশনার ড. জাকির খান ও তারেক চৌধুরী, ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের ক্লিনিক্যাল লেকচারার ড. মঞ্জুর শওকতসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া বিবিপিআই-এর প্রতিষ্ঠাতা কাউন্সিলর আবদাল উল্লাহ, বিসিএ প্রেসিডেন্ট অলি খান, চ্যানেল এস-এর প্রতিষ্ঠাতা মাহী ফেরদৌস জলিল, এনটিভি ইউরোপের সিইও সাবরিনা হোসাইন, জনমত ও কারি লাইফ সম্পাদক সাংবাদিক সৈয়দ নাহাস পাশা, বাংলাদেশ সেন্টারের সেক্রেটারি তফজ্জুল মিয়া এবং হ্যারোর সাবেক মেয়র সেলিম চৌধুরী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের আগে বিবিসিসিআই’র দুটি ডাইরেক্টর পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে আমিরুল ইসলাম চৌধুরী ও জাহিরুল ইসলাম সিআইপি নতুন ডাইরেক্টর নির্বাচিত হন।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.