প্রকাশিত: ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৬:৫৪ (শুক্রবার)
নামাজে মনোযোগ বাড়ানোর উপায়

ছবি সংগৃহীত :

নামাজে একাগ্রতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কোরআন-হাদিসে নামাজে একাগ্রতা অর্জনের বিষয়ে বিশেষভাবে তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

 

 

ইসলামি স্কলারদের মতে, নামাজের একাগ্রতার দুটি দিক রয়েছে। একটি হলো নামাজে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ স্থির রাখা এবং অন্যটি হলো মনোযোগ ও একাগ্রতা বজায় রাখা।

এই দুই বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে যে নামাজ আদায় করা হয়, সেটিকে একাগ্রতাযুক্ত নামাজ বলা হয়। একাগ্রতা অর্জনের ক্ষেত্রে ইসলামি স্কলাররা কয়েকটি বিষয়ের প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন।

বাহ্যিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ স্থির রাখা

নামাজে হাত, পা ও শরীরকে নামাজের বাইরের কোনো কাজে ব্যবহার করা যাবে না। অনর্থক নড়াচড়া থেকেও বিরত থাকতে হবে।

সাহাবি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের নবীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন সাতটি (অঙ্গের) ওপর সিজদা করে এবং নামাজে চুল বা কাপড় না গুটায়।’ -সুনানে আবু দাউদ: ২/১৪

নির্ভরযোগ্য বর্ণনায় এসেছে, বিখ্যাত তাবেয়ি মুজাহিদ (রহ.) বলেন, হজরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.) ও হজরত আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর (রা.) যখন নামাজে দাঁড়াতেন, তখন মনে হতো একটি কাঠ মাটিতে গেঁড়ে দেওয়া হয়েছে। -মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা: ৭৩২২

প্রখ্যাত তাবেয়ি আমাশ (রহ.) থেকে নির্ভরযোগ্য সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) যখন নামাজে দাঁড়াতেন, তাকে দেখে মনে হতো যেন একটি পড়ে থাকা কাপড়। -মুসান্নাফ আবদুর রাজ্জাক: ৩৩০৩

এদিক-সেদিক না তাকানো এবং নামাজের অবস্থায় যেখানে দৃষ্টি রাখার নিয়ম, সেখানে দৃষ্টি রাখাও বাহ্যিক একাগ্রতার অন্তর্ভুক্ত।

হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, আমি হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করেছি, নামাজে এদিক-সেদিক তাকানোর ব্যাপারে আপনি কী বলেন? জবাবে তিনি বলেছেন, ‘এটা হলো শয়তানের ছোঁ মারা, যা দ্বারা শয়তান আল্লাহর বান্দাদের নামাজ থেকে গাফেল ও উদাসীন করে ফেলে।’ -সহিহ বোখারি: ৭৫১

বিশিষ্ট সাহাবি আবু যর (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেছেন, নামাজের সময় আল্লাহতায়ালা বান্দার প্রতি সর্বক্ষণ রহমতের দৃষ্টি রাখেন, যতক্ষণ নামাজি অন্য কোনো দিকে দৃষ্টি না দেয়। যখন সে অন্যদিকে চেহারা ফেরায়, তখন আল্লাহতায়ালা তার থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে নেন। -মুসনাদে আহমদ: ২১৫০৮

নামাজে মনোযোগ ও একাগ্রতা রক্ষা করা

নামাজে মনোযোগ ধরে রাখার জন্য প্রথমেই এমন মনোভাব তৈরি করতে হবে যে, এটিই জীবনের শেষ নামাজ। কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘অতএব দুর্ভোগ সেসব নামাজির, যারা তাদের নামাজ সম্বন্ধে বে-খবর; যারা তা লোক-দেখানোর জন্য করে।’ -সূরা মাউন: ৩-৬

সাহাবি হজরত আবু আইয়ুব আনসারি (রা.) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে সংক্ষিপ্তভাবে দ্বীনের কিছু কথা বলে দিন। জবাবে হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘তুমি যখন নামাজ পড়, তখন জীবনের শেষ নামাজ আদায়কারীর মতো নামাজ পড়।’ -সুনানে ইবনে মাজা: ৪৭১

নামাজে মনোযোগ ধরে রাখার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো-পুরো নামাজ এমন অনুভূতি নিয়ে আদায় করা যে, আল্লাহতায়ালা আমাকে দেখছেন এবং আমি তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে আছি।

প্রসিদ্ধ হাদিসে জিবরিলে ইরশাদ হয়েছে, আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘তুমি এমনভাবে ইবাদত করো যেন তুমি আল্লাহকে দেখছ। আর তুমি যদি আল্লাহকে না-ও দেখ, তবে আল্লাহ তো তোমাকে অবশ্যই দেখছেন।’ -সহিহ মুসলিম: ৮

এর পাশাপাশি নামাজের সময় এ বিষয়টিও খেয়াল রাখতে হবে যে, আমি আল্লাহতায়ালার সম্মুখে দাঁড়িয়ে আছি এবং তাঁর সঙ্গে কথা বলছি। কেননা নামাজ হলো আল্লাহতায়ালার সঙ্গে একান্তে কথোপকথন।

সহিহ বোখারিতে সাহাবি হজরত আনাস ইবনে মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ যখন নামাজে দাঁড়ায়, তখন সে আল্লাহর সঙ্গে একান্তে কথা বলে; যতক্ষণ সে তার নামাজের জায়গায় থাকে।’ —সহিহ বোখারি: ৪১৬

ওপরের পন্থাগুলো অবলম্বনের পাশাপাশি আল্লাহতায়ালার কাছে নামাজে একাগ্রতা অর্জনের জন্য নামাজের বাইরেও বিভিন্ন সময়ে দোয়া করতে হবে।

নামাজে মনোযোগ ধরে রাখার আরেকটি সহজ পন্থা হলো নামাজের কেরাত ও তাসবিহগুলোর দিকে মনোযোগ রাখা। এগুলোর অর্থ জানা থাকলে অর্থের দিকেও ধ্যান রাখতে হবে।

নামাজ পড়ার সময় কখনো অনিচ্ছাকৃতভাবে মন অন্যদিকে চলে গেলে এতে ক্ষতি নেই। তবে বিষয়টি মনে পড়ামাত্র পুনরায় মনোযোগ নামাজের দিকে ফিরিয়ে আনতে হবে। স্মরণ হওয়ার পরও অন্য কিছু নিয়ে ভাবতে থাকা বা ইচ্ছাকৃতভাবে অন্য কোনো বিষয়ে মনোযোগ দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।