প্রকাশিত: ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:২১ (বুধবার)
সিলেটে র‌্যাবের অভিযানে হত্যা মামলার আসামি গ্রেফতার

সিলেটের কানাইঘাটে আজিজুর রহমানকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার এজাহারনামীয় আরও এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৯। গ্রেফতার আসামির নাম নাহিয়ান (৩০)। তিনি কানাইঘাট উপজেলার আগফৌদ (নারায়ণপুর) এলাকার বিটু মিয়ার ছেলে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টা ৩৫ মিনিটের দিকে সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার ১ নম্বর ইউনিয়নের চিকনাকুল বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

র‌্যাব-৯ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সদর কোম্পানি, সিলেটের একটি অভিযানিক দল এ অভিযান পরিচালনা করে। নাহিয়ান কানাইঘাট থানায় দায়ের করা হত্যা মামলার ৮ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি এবং দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, নিহত আজিজুর রহমান সিলেটের কানাইঘাট থানাধীন আগফৌদ (নারায়ণপুর) এলাকার বাসিন্দা। আসামিরাও একই এলাকার বাসিন্দা। এলাকায় বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাদের কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ায় আজিজুর রহমানের ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন আসামিরা। এ কারণে তারা দীর্ঘদিন ধরে তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিলেন।

গত ১৭ জুলাই জুমার নামাজ আদায়ের জন্য স্থানীয় জামে মসজিদে যান আজিজুর রহমান। নামাজ শেষে দুপুর আনুমানিক ১টা ৫০ মিনিটে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পর আসামিরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে তার পথরোধ করেন। এ সময় তারা আজিজুর রহমানের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে গুরুতর জখম করেন।

একপর্যায়ে আসামিদের হাতে থাকা দা ও কুড়াল দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে আজিজুর রহমানের পেটের বাম পাশে সজোরে আঘাত করা হয়। এতে তার নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে আসে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে নেওয়া হলে চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।

পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় গত ৩১ জুলাই সকাল আনুমানিক ৭টা ৫০ মিনিটে আজিজুর রহমানের মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে কানাইঘাট থানায় মামলা করেন। মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩/৩৪১/৩২৬/৩০৭/১১৪ ও পরবর্তীতে ৩০২ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।

এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন র‌্যাব-৯-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, মামলার পর থেকেই আসামিদের আইনের আওতায় আনতে ঘটনাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে র‌্যাব। গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদারের ধারাবাহিকতায় নাহিয়ানের অবস্থান শনাক্ত করে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ২ আগস্ট একই মামলার এজাহারনামীয় ৪ নম্বর আসামিকেও গ্রেফতার করেছিল র‌্যাব-৯।