প্রকাশিত: ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:৪৪ (বুধবার)
সিলেটে টিকিট কালোবাজারি রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর ২ সদস্য আটক

ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি ও অবৈধভাবে টিকিট কেনাবেচার অভিযোগে সিলেটে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) দুই সদস্যকে আটক করেছে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে সিলেট রেলওয়ে স্টেশনে অভিযান চালিয়ে তাদের হাতেনাতে আটক করা হয়।

আটক দুজন সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার আবু তাহের এবং দিরাই উপজেলার সঞ্জয় দাস। তারা দুজনই রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) সদস্য।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে সিলেট জেলা প্রশাসনের অভিযানকালে তাদের কাছ থেকে ট্রেনের টিকিট, টিকিট সংগ্রহ ও বিক্রির কাজে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, ভয়েস মেসেজসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা অনলাইনে অবৈধভাবে টিকিট সংগ্রহ করে বিভিন্ন মাধ্যমে কালোবাজারে বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

এ তথ্য নিশ্চিত করেন সিলেট রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সিলেট জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি ও অবৈধভাবে টিকিট কেনাবেচার অভিযোগে আরএনবির দুই সদস্যকে আটক করা হয়েছে। আটক দুজনকে আপাতত রেলওয়ে পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে।’

ওসি আরও বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে পরবর্তীতে যেভাবে নির্দেশনা দেওয়া হবে, সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আইনগত ক্রিয়ার বিষয়ে এখনই নির্দিষ্ট করে কিছু বলা যাচ্ছে না। ভ্রাম্যমাণ আদালত বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মামলা বা অন্য কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে কর্তৃপক্ষের পরবর্তী নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ।’

অভিযানের বিষয়ে সিলেট জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাকিবুল আলম বলেন, ‘রেলওয়ের টিকিট কালোবাজারি ও অবৈধভাবে টিকিট কেনাবেচা রোধে বিশেষ অভিযান চালিয়ে হাতেনাতে দুজনকে আটক করা হয়েছে। আটক দুজনই রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) সদস্য এবং তারা অনলাইনে অবৈধভাবে টিকিট সংগ্রহ করে বিভিন্ন মাধ্যমে কালোবাজারে বিক্রি করতেন বলে প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘অভিযানে তাদের কাছ থেকে টিকিট, মোবাইল ফোন, ভয়েস মেসেজসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থার জন্য রেলওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। জনস্বার্থে টিকিট কালোবাজারির বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’