প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যে ঘেরা সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরের জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় পর্যটক ও হাউসবোট সংশ্লিষ্টদের জন্য জরুরি নির্দেশনাসংবলিত সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের উদ্যোগে রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তাহিরপুর উপজেলার জয়পুর-গোলাবাড়ি এলাকায় এ সাইনবোর্ড স্থাপন করেন সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান। এ সময় প্রশাসনের কর্মকর্তা, পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
স্থাপিত সাইনবোর্ডে সংযুক্ত ডিজিটাল কিউআর কোড স্ক্যান করে পর্যটক ও হাউসবোট সংশ্লিষ্টরা ‘টাঙ্গুয়ার ও হাকালুকি হাওর সুরক্ষা আদেশ-২০২৫’ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে পারবেন। পাশাপাশি হাওরে পর্যটনকালে করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়গুলো সম্পর্কেও সচেতন হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) হিসেবে ঘোষিত টাঙ্গুয়ার হাওরের অনন্য জীববৈচিত্র্য, জলজ ও প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব পর্যটন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
টাঙ্গুয়ার হাওর ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় পর্যটকবাহী হাউসবোট ও নৌযান চলাচল-সংক্রান্ত জরুরি নির্দেশনাগুলো হলো—
১. টাঙ্গুয়ার হাওরের প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় পর্যটকবাহী হাউসবোট/নৌযান প্রবেশ ও চলাচল সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ থাকবে।
২. পর্যটকদের জন্য আচরণবিধি দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করতে হবে এবং এর প্রতিপালন নিশ্চিত করতে হবে।
৩. হাউসবোটে উচ্চস্বরে গান-বাজনা, মাইক বাজানো ও কোনো পার্টি আয়োজন করা যাবে না।
৪. একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বহন সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। নিরাপদ পানীয় জলের জন্য পানি বিশুদ্ধকরণ ফিল্টার রাখতে হবে।
৫. সব হাউসবোটের দৈর্ঘ্য সর্বোচ্চ ১০০ (একশ) ফুটের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে।
৬. জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় যোগাযোগ নম্বরগুলো দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করতে হবে।
৭. পর্যাপ্তসংখ্যক লাইফ জ্যাকেট, লাইফবয় রিং ও অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র সংরক্ষণ করতে হবে এবং গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
৮. প্রতিটি হাউসবোট/নৌযানে পর্যাপ্তসংখ্যক ডাস্টবিন থাকতে হবে।
৯. হাউসবোট/নৌযানের মালিক ও ট্যুর অপারেটর প্রতিটি ট্যুরে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
১০. দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় পর্যটক পরিবহন সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ থাকবে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান বলেন, টাঙ্গুয়ার হাওর শুধু সুনামগঞ্জের নয়, এটি দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ ও জীববৈচিত্র্যের আধার। পর্যটকরা যেন হাওরের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের কোনো ক্ষতি না করেন, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে। হাউসবোট সংশ্লিষ্টদেরও পরিবেশ সংরক্ষণে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সাইনবোর্ডে থাকা কিউআর কোড স্ক্যান করে পর্যটকরা টাঙ্গুয়ার ও হাকালুকি হাওর সুরক্ষা আদেশ-২০২৫-এর নির্দেশনাগুলো সহজেই জানতে পারবেন। নিয়ম মেনে পরিবেশবান্ধব পর্যটন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সচেতনতামূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.