প্রকাশিত: ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৯:২৩ (রবিবার)
বড়লেখায় গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগে স্বামীসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় গৃহবধূ মরিয়ম আক্তার মুন্নির (২২) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তার স্বামী, শাশুড়ি, ননদ, ভাসুর ও জাসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। যৌতুকের ৫ লাখ টাকা ও এনজিওর ঋণের কিস্তির জন্য অনবরত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে তাকে আত্মহত্যায় বাধ্য করা হয়েছে বলে এজাহারে অভিযোগ করেছেন নিহতের মা।

গত ২১ আগস্ট উপজেলার মুড়িরগুল এলাকার শ্বশুরবাড়ি থেকে মুন্নির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। বিষয়টি নিয়ে হত্যা বনাম আত্মহত্যার বিতর্ক সৃষ্টি হলে সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মৃত্যুর কারণ ‘আত্মহত্যা’ নিশ্চিত হওয়া যায়।

পরবর্তীতে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে নিহতের মা মোছা. রেনু বেগম বাদী হয়ে বড়লেখা থানায় হত্যাপ্ররোচনা ও যৌতুক নিরোধ আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৬ জন নামীয়সহ অজ্ঞাতনামা আরো ৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার বছর আগে মুড়িরগুল এলাকার মৃত ইয়াছিন আলীর ছেলে লাভলু আহমদের সঙ্গে মুন্নির বিয়ে হয়। তাদের আড়াই বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে। লাভলু বর্তমানে সৌদি আরবে থাকেন।

মুন্নির পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে আসছিলেন। ওই টাকা দিয়ে লাভলু সৌদি আরবে গাড়ি কিনবেন বলে মুন্নিকে চাপ দেওয়া হতো। টাকা দিতে না পারায় তাকে বিভিন্ন সময় গালিগালাজ ও শারীরিক-মানসিক নির্যাতন করা হয়।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, শ্বশুরবাড়ির লোকজন মুন্নিকে বিভিন্ন ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠান থেকে টাকা তুলে দেওয়ার জন্য চাপ দিতেন। একপর্যায়ে মুন্নির বাবা জামিনদার হয়ে তার নামে একটি বেসরকারি ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠান থেকে পাঁচ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে দেন। পরে ওই ঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হলে মুন্নির ওপর আবারও চাপ সৃষ্টি করা হয়।

পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার দিন ২১ আগস্ট মুন্নিকে পিত্রালয় থেকে টাকা এনে ঋণের কিস্তি পরিশোধের জন্য চাপ দেওয়া হয়। তিনি টাকা দিতে অপারগতা জানালে তাকে গালাগাল ও মারধর করা হয়। এ সময় নির্যাতনের কিছু অডিও পরিবারের সদস্যদের কাছে পাঠিয়েছিলেন মুন্নি। তার মায়ের দাবি, স্বামীর কাছ থেকেও ফোনে হুমকি ও মানসিক চাপ দেওয়া হতো।

পরে ওই দিন দুপুরের দিকে স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধি মুন্নির বাবাকে ফোন করে তার মৃত্যুর খবর দেন। পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মুন্নিকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠায়।

মুন্নির মা রেনু বেগমের অভিযোগ, মেয়ের লাশ গোসল করানোর সময় তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। নির্যাতনের অডিও ও ভিডিও তাদের কাছে সংরক্ষিত আছে বলেও তিনি মামলার অভিযোগে উল্লেখ করেছেন। তার দাবি, স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজনের দীর্ঘদিনের নির্যাতন, মানসিক যন্ত্রণা ও আত্মহত্যায় প্ররোচনার কারণে মুন্নি এ পথ বেছে নেন।

এর আগে মুন্নির বাবা মকবুল আলী বড়লেখা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করেছিলেন। পরে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর তার মা লিখিত অভিযোগ দেন।

বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান খান মামলার এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, আসামিদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশের অভিযান চলছে।