ছবি: সংগৃহীত
বাগেরহাটের কচুয়া থানার চান্দেরকোলা গ্রামে একই পরিবারের মা, ছেলে ও দাদি হত্যার ঘটনায় জড়িত তিন আসামিকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা ও কচুয়া থানা পুলিশ। উদ্ধার করা হয়েছে নিহত আহাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও চার্জার।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) প্রেস ব্রিফিংয়ে বাগেরহাটের পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এ বছর গত ২ আগস্ট দিবাগত রাত থেকে ৪ আগস্ট ভোর ৫টার দিকে চান্দেরকোলা গ্রামে একই পরিবারের ৩ জন সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। ৪ আগস্ট বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে সংবাদ পেয়ে কচুয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতালে পাঠায়।
এ ঘটনায় কচুয়া থানায় পেনাল কোডের ৩০২ ধারায় একটি হত্যা মামলা রুজু হয়। ঘটনার পর বাগেরহাট জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও কচুয়া থানা পুলিশের একটি চৌকস টিম যৌথ অভিযান শুরু করে। গত ১৩/০৮/২০২৬ তারিখে ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী জাহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তী সময়ে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ৫/০৯/২০২৬ তারিখ রাত সাড়ে ৮টার দিকে আসাদুল শেখকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়।
আসাদুলের স্বীকারোক্তি মতে, তার শয়নকক্ষের খাটের বালিশের নিচ থেকে নিহত আহাদের ব্যবহৃত একটি মোবাইল ও চার্জার উদ্ধার করা হয়।আসাদুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই রাতে ১০টার দিকে মো. আরিফ হাওলাদার ওরফে বাবুকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামিরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তদন্তে জানা যায়, ভুক্তভোগী আহাদের পরিবারের এক নারী সদস্যের সঙ্গে প্রধান আসামি জাহিদুল ইসলামের দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়া ছিল। এই পরকীয়ার কথা উভয় পরিবারে জানাজানি হলে আহাদের মা নিহত মনিরা বেগমের সঙ্গে জাহিদুলের ঝগড়া-বিবাদ হয়। এছাড়া জাহিদুলের স্ত্রীর সঙ্গেও এ নিয়ে পারিবারিক দ্বন্দ্ব চলছিল। এই বিরোধের জের ধরেই জাহিদুল ইসলামের পরিকল্পনায় এবং অন্যান্য আসামীদের সহযোগিতায় এই নির্মম হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।
জাহিদুল ইসলাম, মৃত মজিদ হাওলাদার ছেলে, আসাদুল শেখ, সুলতান শেখর ছেলে ও মো. আরিফ হাওলাদার ওরফে বাবু, বারিক হাওলাদারের ছেলে। তারা সবাই কচুয়া থানার বাসিন্দা।
পুলিশ সুপার জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকি সকল আসামিকে আইনের আওতায় আনা হবে।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.