প্রকাশিত: ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:২৩ (শনিবার)
সুনামগঞ্জে র‌্যাবের যৌথ অভিযানে হত্যা মামলার আসামি গ্রেফতার

ঢাকার উত্তরখানে মোক্তার আলী (৫৩) হত্যা মামলার ঘটনায় সুনামগঞ্জ থেকে আমির হোসেন (৪৫) নামে এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৯ ও র‌্যাব-১-এর যৌথ দল।

র‌্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে সুনামগঞ্জ সদর থানাধীন সফেলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে  গ্রেফতার করা হয়।গ্রেফতার আমির হোসেন সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সফেলা এলাকার বাসিন্দা।

র‌্যাবের তথ্যমতে, নিহত মোক্তার আলী সুনামগঞ্জ জেলার রাজালগঞ্জ থানাধীন ইনাতনগর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি পরিবার নিয়ে ঢাকার উত্তরখান থানাধীন খ্রিষ্টানপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। একই এলাকার বাসিন্দা ছিলেন মামলার অভিযুক্তরাও।

র‌্যাব জানায়, গত ১৪ আগস্ট বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে মোক্তার আলীর মেয়ে তানিয়ার সঙ্গে আমির হোসেনের মেয়ে ফাতেহার পূর্ববিরোধের জেরে কথা-কাটাকাটি হয়। বিষয়টি ফাতেহা তার পরিবারের সদস্যদের জানালে ওই দিন রাত আনুমানিক ১১টার দিকে আমির হোসেন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মোক্তার আলীর বাসায় যান। সেখানে তারা পরিবারের সদস্যদের গালিগালাজ করেন।

এর জের ধরে পরদিন ১৫ আগস্ট ভোর আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে মোক্তার আলী কাজে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হলে বাসার সামনের রাস্তায় আমির হোসেনের নির্দেশে কয়েকজন ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালান বলে জানায় র‌্যাব।

হামলাকারীরা মোক্তার আলীকে এলোপাতাড়ি আঘাত করে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করেন। তার চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাদের ওপরও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়ে আহত করে পালিয়ে যায়।

পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ঢাকার উত্তরার কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মোক্তার আলীকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অন্যরা ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে ঢাকার উত্তরখান থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩/৩২৩/৩২৪/৩২৬/৩০৭/৩০২/৫০৬/১১৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

এ তথ্যট নিশ্চিত করেছেন র‌্যাব-৯-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই আসামিদের আইনের আওতায় আনতে ছায়া তদন্ত শুরু করে র‌্যাব। এর ধারাবাহিকতায় র‌্যাব-৯-এর সিপিসি-৩, সুনামগঞ্জ এবং র‌্যাব-১-এর সিপিসি-২, উত্তরা, ঢাকার যৌথ দল অভিযান পরিচালনা করে আমির হোসেনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

গ্রেফতার আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

এদিকে মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতার র‌্যাব-৯-এর গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।