প্রকাশিত: ০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:১৪ (শনিবার)
গোয়াইনঘাট সীমান্তে ভারতীয় চোরাই গরুর তাণ্ডব, নষ্ট হচ্ছে কৃষকের ধান

সিলেটের গোয়াইনঘাট - কোম্পানিগঞ্জ উপজেলার দমদমা ও তুরুং সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় চোরাই গরুর অবাধ চলাচলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষকের ফসল।রাতের আঁধারে সীমান্ত দিয়ে আসা চোরাই গরুর পাল রোপন করা ধানের চারা মাড়িয়ে নষ্ট করছে বলে অভিযোগ করছেন স্থানীরা ভুক্তভোগী কৃষকরা। এতে সীমান্ত এলাকার কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। 

ভুক্তভোগী কৃষক রফিক উদ্দিন জানান, শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে প্রায় দুই শতাধিক ভারতীয় গরু তাঁর ২৫ শতক জমির ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় কিছু দিন পূর্বে রোপন করা ধানের চারা নষ্ট করে।তিনি  দাবি করেন, গত তিন - চার মাস ধরে ভারতীয় গরুর কারণে সীমান্ত এলাকার কৃষকদের ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। 

রফিক উদ্দিন অভিযোগ করেন, দমদমা সীমান্তের প্রভাবশালী লাইনম্যান ইমরান হোসেন কালা ও আবু সাঈদের মাধ্যমে রাতে ভারত থেকে গরু আনা হচ্ছে। এ কাজে ক্যাম্পের কিছু অসাধু বিজিবি সদস্য কে ম্যানেজ করার অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর ক্ষতিগ্রস্ত জমিটি দমদমা বিজিবি ক্যাম্প থেকে আনুমানিক ২০০ শত গজ দূরে উল্লেখ করে তিনি বলেন,ক্যাম্পের এত কাছ দিয়ে নিয়মিত গরু চালাচল কীভাবে হচ্ছে, তা তদন্ত করা প্রয়োজন।

আরেক ভুক্তভোগী কৃষক ও মুক্তিযোদ্ধা  আজহার আলী অভিযোগ করেন,ইমরান, আবু সাঈদ সহ কয়েকজন ভারতীয় গরু আনার সঙ্গে জড়িত। তিনি বলেন,রাতের আধারে গরুর পাল চলাচলের সময় পুকুরপাড়ের গাছপালা ও বাড়ির আশপাশের স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।বাধা দিলে হুমকি ধমকি দেওয়া হয়।

কৃষক জসিম উদ্দিন বলেন, ভারতীয় গরুর কারণে তাঁর কয়েকবিঘা জমির ধানের চারা নষ্ট হয়েছে। তিনি বলেন,লাইনম্যান ইমরান হোসেন কালা ও আবু সাঈদ কে ভারতীয় গরু নিয়ে ধানের চারা নষ্ট না করতে  বার বার বলা হলেও তারা শুনেনি।তিনি আরও বলেন,দমদমা সীমান্তের এই দুই লাইনম্যানসহ কয়েকজন লাইনম্যান গরু প্রতি এক হাজার টাকা আদায় করছেন।বিষয়টি বিজিবি ক্যাম্পে জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ করার শর্তে জানান, কথিত লাইনম্যান হিসেবে যাদের নাম আসছে তাদের মধ্যে ইমরান ও আবু সাঈদ দমদমা সীমান্তে বিজিবি সদস্য মাসুম বিল্লাহর ওপর হামলার মামলার ওয়ারেন্ট ভুক্ত আসামি। তাদের অভিযোগ বিজিবি কিছু সদস্যকে ম্যানেজ করেই রাতের আধাঁরে সীমান্ত দিয়ে গরু আনা হচ্ছে। 

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইমরান হোসেন কালা। তিনি বলেন,বর্তমানে তিনি কোন লাইনম্যানের দায়িত্বে নেই এবং অনেক আগেই এ ধরনের কাজ ছেড়ে দিয়েছেন। কৃষকের ধান যারা নষ্ট করেছে ওই ব্যবসায়িদের বলুক, বিজিবি ও সাংবাদিক কে বলে লাভ কি?

অভিযোগের বিষয়ে দমদমা বিওপির নায়েব সুবেদার মোশাররফ হোসেন বলেন,বর্তমানে লাইনম্যান বলতে কোন কার্যক্রম নেই। কোন বিজিবি সদস্য এসবের সঙ্গে জড়িত নন। কেউ জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষ কে জানানো হবে।
তিনি আরও বলেন, সন্ধ্যার পর সীমান্তে বিজিবি কঠোর অবস্থানে থাকে এবং নিয়মিত টহল পরিচালনা করা হয়।সীমান্তের নজুর ভাঙা থেকে 
ভীতরগুল পর্যন্ত বিজিবির টহল ছিল গরু নিয়ে যাওয়ার সময় ধাওয়া খেয়ে কিছু ফসল নষ্ট হয়ে থাকতে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের ছেলে ক্যাম্পে এসে বিষয়টি জানিয়েছেন বলেও জানান তিনি। 

এ বিষয়ে রুস্তুমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন শিহাব বলেন,ভুক্তভোগী কৃষক রফিক উদ্দিন আমার কাছে এসেছিলেন।তিনি ভারতীয় গরু ব্যবসায়িদের উদ্দেশ্য মন্তব্য করে বলেন,ব্যাবসায়িরা গরু আনলে রাস্তা দিয়ে গরু আনলে হয়। কিন্তু কৃষকের ফসলী জমি নষ্ট করে গরু আনা এটা কোন ভাবে কাম্যনয়।এ বিষয়ে কৃষকদের ক্ষতিগ্রস্ত ফসলী জমি তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের প্রতি আহবান জানান তিনি।