প্রকাশিত: ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:৩২ (শুক্রবার)
সিলেট সীমান্তে অবৈধভাবে প্রবেশের পর নারীকে আটকে রেখে দলবেঁধে ধর্ষণ

প্রতিকী ছবি

সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার দোনা নামক সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের পর এক নারীকে কয়েকদিন আটকে রেখে দলবেঁধে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।

নির্যাতনের শিকার ওই নারী কৌশলে পালিয়ে এসে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহায়তায় থানায় অভিযোগ দায়ের করার পর পুলিশ মামলা গ্রহণ করেছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর থেকে গত দুই দিন ধরে পুরো এলাকা জুড়ে তীব্র তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শেরপুর সদরের ঘাজির খামার ইউনিয়নের শালচুড়া এলাকার বাসিন্দা ওই গৃহবধূ ১৮ আগস্ট ভারত থেকে দোনা সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন।

 এ সময় স্থানীয় একটি অপরাধী চক্র তাকে একা পেয়ে আটক করে ফেলে। এরপর চক্রের সদস্যরা ওই নারীর বোনের মুঠোফোনে কল করে তাকে জিম্মি করার কথা জানায় এবং মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করে। পরিবারের পক্ষ থেকে একাধিক দফায় বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠানো হলেও তাকে মুক্তি না দিয়ে নির্যাতন চালিয়ে যাওয়া হয়।

ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ করেন, নাঈম ও কাওসারসহ চক্রের কয়েকজন মিলে তাকে একটি নির্দিষ্ট স্থানে আটকে রেখে ক্রমাগত নির্যাতন ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করেন। ধর্ষণের পর তার সঙ্গে থাকা নগদ টাকা, একটি সোনার চেইন এবং একটি রুপার চেইনসহ মূল্যবান সব মালামাল ছিনিয়ে নেয় অপরাধীরা।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে কানাইঘাট উপজেলার পূর্ব লক্ষ্মীপ্রসাদ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নাজিম উদ্দিন জানান, শামীম ও সুলতান নামের দুই তরুণ নিজেদের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন জামানত হিসেবে রেখে নারীকে জিম্মিদশা থেকে উদ্ধার করে আনেন। পরবর্তীতে শামীমের মাধ্যমেই ভুক্তভোগীকে নিরাপদে কানাইঘাট থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, সীমান্ত পার হয়ে আসার পর পথ চিনতে না পারায় স্থানীয় কিছু লোক ওই নারীকে নিরাপদে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে একটি ঘরে আটকে রাখে। খবর পেয়ে পুলিশ এ ঘটনায় একটি মামলা নথিভুক্ত করেছে এবং প্রধান অভিযুক্ত নাঈমকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, সিলেটের এই দোনা সীমান্ত দেশের রাজনৈতিক ও নানা অপরাধমূলক প্রেক্ষাপটে বারবার আলোচনায় এসেছে। এর আগে ভারত পালানোর সময় সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি মানিক এই সীমান্ত থেকেই আটক হয়েছিলেন। এছাড়া সিলেটের বহুল আলোচিত রায়হান হত্যা মামলার প্রধান আসামি বরখাস্তকৃত উপ-পরিদর্শক (এসআই) আকবরকেও ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় এই দোনা সীমান্ত থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।