ছবি: সংগৃহীত
বিশ্ব ভূরাজনীতিতে ওয়াশিংটনের প্রভাব ও একচ্ছত্র আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ জানাতে এক ছাদের নিচে দাঁড়িয়েছে বিশ্বের চার পারমাণবিক শক্তিধর দেশ—চীন, রাশিয়া, ভারত ও পাকিস্তান। তাদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে আরও ছয়টি প্রভাবশালী রাষ্ট্র। কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে অনুষ্ঠিত সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে ক্ষমতার এক নতুন মেরুকরণ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
এক যৌথ বিবৃতিতে দেশগুলো ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি সামরিক আগ্রাসন এবং বিভিন্ন সদস্য রাষ্ট্রের ওপর আরোপিত পশ্চিমা একতরফা নিষেধাজ্ঞার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানা যায়, সম্মেলনের সমাপনীতে গৃহীত ‘বিশকেক ঘোষণা’ নামের যৌথ বিবৃতিতে ওয়াশিংটনের অর্থনৈতিক ও সামরিক নীতির বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেওয়া হয়েছে। বিবৃতিটিতে সই করেছেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। চার পারমাণবিক পরাশক্তির পাশাপাশি জোটের অন্য ছয় সদস্য—ইরান, বেলারুশ, উজবেকিস্তান, কাজাখস্তান, তাজিকিস্তান ও কিরগিজস্তান এতে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছে।
ঘোষণাপত্রে সম্প্রতি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলার তীব্র ভাষায় সমালোচনা করা হয়। এসসিও নেতারা জানান, এই হামলা আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের গুরুতর লঙ্ঘন এবং এটি বৈশ্বিক শান্তির জন্য চরম হুমকিস্বরূপ। হামলায় ব্যাপক বেসামরিক নাগরিকের প্রাণহানি এবং ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির মৃত্যুর ঘটনায় যৌথ সমবেদনা জানিয়ে ইরানের আঞ্চলিক অখণ্ডতার পাশে থাকার কথা পুনর্ব্যক্ত করে ১০ দেশের এই অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা জোট।
ফিলিস্তিন ইস্যু তুলে ধরে এসসিও নেতারা বলেন, গাজা ও ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি আগ্রাসনই পুরো পশ্চিম এশিয়ায় অস্থিতিশীলতার মূল উৎস। ফিলিস্তিন সংকটের ন্যায্য সমাধান ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি আনা সম্ভব নয়।
একই সঙ্গে মার্কিন অর্থনৈতিক অস্ত্র ও নিষেধাজ্ঞার নীতিকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে এ সম্মেলনে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) ও জাতিসংঘের নিয়ম তোয়াক্কা না করে রাশিয়া, ইরানসহ বিভিন্ন দেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা একতরফা অর্থনৈতিক জবরদস্তির সরাসরি বিরোধিতা করেছে জোটটি। নেতাদের মতে, ওয়াশিংটনের নীতি বিশ্ব অর্থনীতিকে অস্থিতিশীল করে তুলছে।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.