মৌলভীবাজারে অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণ করে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি মো. ইমাদকে (১৫) ঢাকার হাতিরঝিল এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৯ ও র্যাব-৩-এর যৌথ অভিযানিক দল।
মঙাগলবার(১ সেপ্টেম্বর) র্যাব-৯-এর পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত ইমাদ মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল থানার উত্তরসুর এলাকার জাহাঙ্গীর মিয়ার ছেলে।
র্যাব জানায়, ভুক্তভোগী মৌলভীবাজার সদর থানাধীন স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। মামলার আসামিরা ভুক্তভোগীর পরিবারের আত্মীয় হওয়ায় আগে থেকেই তাদের ওই বাড়িতে যাতায়াত ছিল। একপর্যায়ে মামলার ১ নম্বর আসামি ইমাদ ওই স্কুলছাত্রীকে প্রেমের প্রস্তাব দেন। তবে ভুক্তভোগী তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।
র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১১ আগস্ট ভুক্তভোগীর মা তাকে স্কুলে পাঠিয়ে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার জন্য মৌলভীবাজার শহরে যান। পরে তিনি বাড়িতে ফিরে মেয়েকে দেখতে না পেয়ে প্রথমে তার স্কুলে খোঁজ নেন। সেখানে মেয়ের সন্ধান না পেয়ে আশপাশের এলাকা, আত্মীয়-স্বজনের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। কোথাও সন্ধান না পেয়ে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।
পরবর্তীতে ১৮ আগস্ট ভুক্তভোগীর মা স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে জানতে পারেন, ঘটনার দিন ১১ আগস্ট দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে ইমাদ অন্য আসামিদের সহযোগিতায় মৌলভীবাজার সদর মডেল থানাধীন কালিয়ারগাঁও এলাকার নতুন বাজার আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে থেকে ওই স্কুলছাত্রীকে জোরপূর্বক একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যান। পরে তাকে মামলার ২ নম্বর আসামি জাহাঙ্গীর মিয়ার বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।
র্যাবের দাবি, সেখানে ইমাদ ওই স্কুলছাত্রীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা মৌলভীবাজার সদর মডেল থানায় মামলা করেন।
মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৭/৯(১)/৩০ ধারায় দায়ের করা হয়। মামলার পর আসামিদের আইনের আওতায় আনতে র্যাব-৯ ঘটনাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে।
এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৯, সিপিসি-২, মৌলভীবাজার ও র্যাব-৩, সিপিসি-২-এর একটি যৌথ অভিযানিক দল গত ৩১ আগস্ট বিকেল ৩টার দিকে ঢাকার হাতিরঝিল থানাধীন মধুবাগ মোড় এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানকালে মামলার এজাহারনামীয় ১ নম্বর পলাতক আসামি ইমাদকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন র্যাব-৯-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, গ্রেফতার আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাব জানায় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র্যাব-৯-এর চলমান গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.