ছবি: সংগৃহীত
বর্তমান সময়ের স্মার্টফোনে একের পর এক নতুন ফিচার যুক্ত হচ্ছে। এসব ফিচার ব্যবহারের ফলে ব্যাটারির ওপরও বাড়ছে চাপ। তাই নির্মাতারা এখন তুলনামূলক বড় ধারণক্ষমতার ব্যাটারি ব্যবহারের পাশাপাশি দ্রুত চার্জিং প্রযুক্তির ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছেন। কিন্তু চার্জের সময় আরও কিছুটা কমাতে এয়ারপ্লেন মোড চালু করে ফোন চার্জ দেওয়া কি সত্যিই কার্যকর?
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এয়ারপ্লেন মোড চালু রেখে স্মার্টফোন চার্জ দিলে কিছুটা সময় কম লাগতে পারে। তবে এই পার্থক্য এতটা বেশি নয় যে, এটিকে দ্রুত চার্জের বড় কোনো কৌশল বলা যায়।
বড় ব্যাটারি, দ্রুত চার্জিং
আধুনিক স্মার্টফোনে সাধারণত ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার মিলিঅ্যাম্পিয়ার ঘণ্টা (mAh) বা তার বেশি ধারণক্ষমতার ব্যাটারি দেখা যায়। এসব ব্যাটারি স্বাভাবিক ব্যবহারে দীর্ঘ সময় ফোন সচল রাখতে পারে। তবে ব্যাটারির ধারণক্ষমতা যত বেশি, সেটি পূর্ণ চার্জ করতেও সাধারণত তত বেশি সময় প্রয়োজন হয়।
এই সময় কমাতে এখন প্রায় সব বড় স্মার্টফোন নির্মাতাই ফাস্ট চার্জিং প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। কোনো কোনো ফোনে মাত্র ৩০ মিনিটে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ হওয়ার মতো সুবিধার কথাও প্রচার করা হয়।
তবে দ্রুত চার্জিংয়ের পাশাপাশি ব্যাটারির দীর্ঘস্থায়ী ভালো পারফরম্যান্সের জন্য নির্মাতার দেওয়া নির্দেশনা মেনে চার্জ দেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
এয়ারপ্লেন মোড কেন কাজে আসতে পারে?
অনেক ব্যবহারকারীর ধারণা, ফোন চার্জে দেওয়ার আগে এয়ারপ্লেন মোড চালু করলে চার্জ দ্রুত পূর্ণ হয়। এর পেছনে যুক্তিও রয়েছে।
এয়ারপ্লেন মোড চালু করলে ফোনের সেলুলার নেটওয়ার্ক, মোবাইল ডাটা এবং ওয়াই-ফাইয়ের মতো বিভিন্ন সংযোগ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে এসব সংযোগ সচল রাখার জন্য ফোনকে অতিরিক্ত শক্তি খরচ করতে হয় না।
এর ফলে চার্জার থেকে ব্যাটারিতে আসা শক্তির একটি বড় অংশ সরাসরি চার্জে ব্যবহৃত হতে পারে। তাই স্বাভাবিক অবস্থার তুলনায় এয়ারপ্লেন মোডে চার্জিং কিছুটা দ্রুত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
আসলে কতটা সময় বাঁচে?
এয়ারপ্লেন মোডে চার্জিং দ্রুত হলেও পার্থক্য খুব বেশি নয়। একটি উদাহরণে দেখা যায়, কোনো স্মার্টফোন এয়ারপ্লেন মোডে ০ থেকে ১০০ শতাংশ চার্জ হতে প্রায় ১ ঘণ্টা ২ মিনিট সময় নিতে পারে।
অন্যদিকে একই ফোনে মোবাইল ডাটা ও ওয়াই-ফাই চালু রেখে চার্জ দিলে সময় লাগতে পারে প্রায় ১ ঘণ্টা ৯ মিনিট।
অর্থাৎ দুই অবস্থার মধ্যে পার্থক্য প্রায় ৬ থেকে ৭ মিনিট। বিভিন্ন স্মার্টফোনের ক্ষেত্রে এই সময়ের ব্যবধান সাধারণত প্রায় ৪ থেকে ৭ মিনিটের মধ্যে থাকতে পারে।
তাহলে এয়ারপ্লেন মোড ব্যবহার করবেন?
দ্রুত চার্জের প্রয়োজন হলে এয়ারপ্লেন মোড চালু করে ফোন চার্জ দেওয়া যেতে পারে। এতে কিছুটা সময় সাশ্রয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কয়েক মিনিটের এই পার্থক্যকে বড় ধরনের চার্জিং সমাধান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
তাই ফোন দ্রুত চার্জ করতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো উপযুক্ত চার্জার ও কেবল ব্যবহার করা এবং স্মার্টফোন নির্মাতার দেওয়া চার্জিং নির্দেশনা অনুসরণ করা। এয়ারপ্লেন মোডকে বরং অতিরিক্ত কিছুটা সময় বাঁচানোর একটি ছোট কৌশল হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.