ছবি সংগৃহীত :
জামালপুর সদর উপজেলার রশিদপুরে এক নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের দায়ে তিনজনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই ঘটনায় অপহরণের দায়ে তিন আসামিকেই যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
সেই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে দুই লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেন আদালত।
সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুর ১টায় জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম এ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ের সময় আসামিরা উপস্থিত ছিলেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- জামালপুর সদর উপজেলার রশিদপুর ভাটিপাড়া এলাকার মৃত রুহুল আমিনের ছেলে মো. ছাত্তার আলী (৪০), কয়ড়ার পাড় এলাকার মৃত শামছুল হকের ছেলে মো. আব্দুল মালেক (৪২) এবং একই এলাকার মৃত নায়েব আলীর ছেলে মো. আনু (৩০)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করে ঢাকায় থাকায় জামালপুরে রশীদপুরে সন্তানসহ নিজ বাড়িতে বাস করছিলেন ভুক্তভোগী নারী। একা থাকার সুযোগে প্রতিবেশী ছাত্তার আলী দীর্ঘদিন ধরে তাকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন।
২০২৪ সালের ১৯ অক্টোবর রাত ১১টার দিকে ছাত্তার আলী ও তার সহযোগীরা ভুক্তভোগীকে নিজ ঘর থেকে তুলে পাশের বাঁশঝাড়ে নিয়ে ধর্ষণ করেন। পরে বিষয়টি কাউকে জানালে হত্যার হুমকি দিয়ে আসামিরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। পরদিন ভুক্তভোগী স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাক্ষীদের বিষয়টি জানান। পরে তাদের পরামর্শে তিনি থানায় মামলা করেন।
মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে প্রত্যেককে দুই লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফজলুল হক বলেন, মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণে প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করেছে। আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে ধর্ষণের দায়ে তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে এবং অপহরণের দায়ে তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রত্যেককে দুই লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এই রায়ে বাদী সন্তুষ্ট।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.