প্রকাশিত: ২৮ আগস্ট, ২০২৬ ১৯:৩২ (শনিবার)
আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সে কী থাকছে, যেসব ফিচার নিয়ে চলছে আলোচনা

ছবি সংগৃহীত :

নতুন আইফোন বাজারে আসার আগেই এর সম্ভাব্য ফিচার নিয়ে প্রযুক্তিপ্রেমীদের আগ্রহ থাকে তুঙ্গে। নকশা, ক্যামেরা, প্রসেসর, ব্যাটারি ও স্টোরেজ সবকিছু নিয়েই শুরু হয় নানা আলোচনা ও গুঞ্জন। এবার সেই আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে অ্যাপলের সম্ভাব্য নতুন ফ্ল্যাগশিপ আইফোন ১৮ প্রোম্যাক্স।

 

 

অ্যাপল এখনো ফোনটি আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করেনি। তবে বিভিন্ন লিক ও প্রযুক্তিবিষয়ক প্রতিবেদনে সম্ভাব্য কিছু ফিচারের তথ্য সামনে এসেছে। আলোচনায় রয়েছে ৬ দশমিক ৯ ইঞ্চির ডিসপ্লে, নতুন এ২০ প্রো চিপ, ১২ জিবি র‍্যাম, সর্বোচ্চ ২ টেরাবাইট স্টোরেজ এবং ক্যামেরায় বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা।

তবে ফোনটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা না হওয়ায় এসব তথ্যকে চূড়ান্ত স্পেসিফিকেশন হিসেবে নেওয়ার সুযোগ নেই।

আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সে ৬ দশমিক ৯ ইঞ্চির এলটিপিও ওএলইডি ডিসপ্লে থাকতে পারে। এতে সর্বোচ্চ ১২০ হার্টজ রিফ্রেশ রেট থাকার সম্ভাবনার কথাও শোনা যাচ্ছে।

বড় ডিসপ্লের কারণে সিনেমা দেখা, গেম খেলা, ছবি ও ভিডিও সম্পাদনার অভিজ্ঞতা আরও উন্নত হতে পারে। উচ্চ উজ্জ্বলতা ও এইচডিআর সুবিধাও থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সের অন্যতম বড় পরিবর্তন হতে পারে নতুন এ২০ প্রো চিপ। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, চিপটি ২ ন্যানোমিটার প্রযুক্তিতে তৈরি হতে পারে।

এতে ফোনের প্রসেসিং ক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ ব্যবহারের দক্ষতাও উন্নত হতে পারে। ফলে পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ব্যাটারি ব্যাকআপেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

নতুন প্রো ম্যাক্স মডেলে ১২ জিবি র‍্যাম থাকতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে। স্টোরেজের ক্ষেত্রে ২৫৬ জিবি, ৫১২ জিবি, ১ টেরাবাইট এবং সর্বোচ্চ ২ টেরাবাইট সংস্করণ আসতে পারে।

২ টেরাবাইট স্টোরেজ চালু হলে উচ্চমানের ভিডিও ধারণ ও বিপুল পরিমাণ ছবি-ভিডিও সংরক্ষণে ব্যবহারকারীরা বাড়তি সুবিধা পাবেন।

আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সের পেছনে তিনটি ৪৮ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা থাকতে পারে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। মূল ক্যামেরার পাশাপাশি আলট্রাওয়াইড ও টেলিফটো ক্যামেরাতেও ৪৮ মেগাপিক্সেলের সেন্সর ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে।

সবচেয়ে আলোচিত পরিবর্তনগুলোর একটি হতে পারে পরিবর্তনশীল অ্যাপারচার প্রযুক্তি। এটি থাকলে বিভিন্ন আলোর পরিবেশে ক্যামেরার কার্যকারিতা আরও উন্নত হতে পারে।

উন্নত অপটিক্যাল জুম ও ভিডিও ধারণের সুবিধাও যুক্ত হতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে।

কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সে আগের মডেলের তুলনায় বড় ব্যাটারি ব্যবহার করা হতে পারে। ব্যাটারির ধারণক্ষমতা ৫ হাজার মিলিঅ্যাম্পিয়ার-ঘণ্টার বেশি হতে পারে বলেও আলোচনা রয়েছে।

নতুন ২ ন্যানোমিটার চিপের সঙ্গে বড় ব্যাটারি যুক্ত হলে ফোনটির ব্যাটারি ব্যাকআপ আরও উন্নত হতে পারে।

আইফোন ১৮ প্রো সিরিজে আগের তুলনায় ছোট হতে পারে ডাইনামিক আইল্যান্ড। ফেস আইডির কিছু উপাদান ডিসপ্লের নিচে সরিয়ে নেওয়া হলে সামনের কাটআউটের আকার কমানো সম্ভব হতে পারে।

এতে ডিসপ্লের ব্যবহারযোগ্য জায়গা আরও বাড়বে। তবে এই পরিবর্তনটি চূড়ান্তভাবে থাকছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

নতুন আইফোনে অ্যাপলের নিজস্ব সি২ মডেম ব্যবহারের সম্ভাবনাও রয়েছে। এটি ৫জি সংযোগের পাশাপাশি বিদ্যুৎ ব্যবহারের দক্ষতা বাড়াতে পারে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সে ৫জি, ওয়াই-ফাই ৭, ব্লুটুথ ও এনএফসি সুবিধা থাকতে পারে। স্যাটেলাইটভিত্তিক যোগাযোগ সুবিধাও আরও বিস্তৃত হতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে।

তবে বাংলাদেশে স্যাটেলাইটভিত্তিক যোগাযোগ সুবিধা পাওয়া যাবে কি না, তা নির্ভর করবে স্থানীয় নেটওয়ার্ক ও সেবার প্রাপ্যতার ওপর।

বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, আইফোন ১৮ প্রো ও আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে উন্মোচন করা হতে পারে। তবে অ্যাপলের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।

এবার সব আইফোন মডেল একই সময়ে বাজারে নাও আসতে পারে বলেও আলোচনা রয়েছে। প্রো মডেলগুলো আগে এবং সাধারণ আইফোন ১৮ পরে বাজারে আসতে পারে।

আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সের বাংলাদেশি দাম এখনো জানা যায়নি। অ্যাপলের আন্তর্জাতিক মূল্য ঘোষণা এবং স্থানীয় বাজারে ফোনটি আসার পরই এর প্রকৃত দাম সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে।

বাংলাদেশে আইফোনের দাম নির্ভর করে আমদানি শুল্ক, কর, ডলারের বিনিময় হার, সরবরাহ ও বিক্রেতার মুনাফাসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর।

সব মিলিয়ে, আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সে পারফরম্যান্স, ক্যামেরা, ব্যাটারি ও ডিসপ্লেতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে বলে আলোচনা চলছে। তবে এখন পর্যন্ত সামনে আসা বেশির ভাগ তথ্যই গুঞ্জন ও সম্ভাব্য স্পেসিফিকেশন।

অ্যাপল আনুষ্ঠানিকভাবে ফোনটি উন্মোচনের পরই জানা যাবে, আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সে আসলে কোন কোন নতুন ফিচার থাকছে এবং এর দাম কত হবে।