প্রকাশিত: ২৮ আগস্ট, ২০২৬ ১৫:৩৪ (শনিবার)
'২০১২’ সিনেমার সেই ভয়ংকর দৃশ্যই কি এখন নেপালের বাস্তবতা?

ছবি সংগৃহীত :

নেপালে ঘটে যাওয়া ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় খড়কুটোর মতো ভেসে গেল পাহাড়ে গড়ে ওঠা লোকালয়, রইল শুধু ধ্বংসস্তূপ আর স্বজনহারার আর্তনাদ। নেপালের রসুয়া জেলার সাম্প্রতিক এমন এক থমথমে দুর্যোগের ছবি সামনে আসতেই শিউরে উঠেছে গোটা বিশ্ব। আর এই বাস্তব ট্র্যাজেডির সঙ্গেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে ১৫ বছর আগের এক হলিউড সিনেমার স্মৃতি। 

২০০৯ সালের আলোড়ন সৃষ্টিকারী কল্পবিজ্ঞান চলচ্চিত্র ‘২০১২’-এর সেই প্রলয়ঙ্করি দৃশ্য কি তবে সত্যি হলো? নেটপাড়ায় এখন এ নিয়ে চলছে তোলপাড়। জন কুস্যাক, আমান্ডা পিট ও চিওয়েটেল এজ়িওফর অভিনীত ‘২০১২’ সিনেমাটির কথা হয়তো অনেকেরই মনে আছে। পৃথিবীর ভৌগোলিক বিপর্যয় এবং মহাপ্লাবনের গল্পে বোনা হয়েছিল ছবিটির কাহিনি। 

ছবির সবচেয়ে প্রভাবশালী দৃশ্যগুলোর একটি ছিল হিমালয় পর্বতের দিকে ধেয়ে আসছে বিশাল জলরাশি। পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে এক বৌদ্ধ সন্ন্যাসী মঠের ঘণ্টা বাজিয়ে বিশ্ববাসীকে সতর্ক করছেন, আর বিশাল ঢেউ গ্রাস করছে পুরো উপত্যকা।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেপালের সাম্প্রতিক হড়পা বান ও পাহাড়ি ঢলের বাস্তব ভিডিওগুলোর পাশে রাখা হচ্ছে ‘২০১২’ সিনেমার সেই রমহর্ষক ক্লিপ ও পোস্টার। ছবির পোস্টারে লেখা ছিল- ‘উই ওয়ার ওয়ার্নড’। বাস্তবের সঙ্গে এই কাল্পনিক দৃশ্যগুলোর অভূতপূর্ব হুবহু মিল দেখে নেটিজেনদের একাংশ দাবি করছেন, সিনেমাটি যেন বহু বছর আগেই নেপালের এই ট্র্যাজেডির ‘ভবিষ্যদ্বাণী’ করে গিয়েছিল।

তবে বিশ্লেষকরা এই ‘ভবিষ্যদ্বাণী’র তত্ত্বকে নেহাতই কাকতালীয় এবং সোশ্যাল মিডিয়ার অতি-উৎসাহ বলে মনে করছেন। সিনেমাটি ছিল সম্পূর্ণ কল্পনানির্ভর ভৌগোলিক মহাবিপর্যয়ের রূপক। তবে এ কথা অনস্বীকার্য যে, ওই সায়েন্স-ফিকশন ছবির কাল্পনিক আতঙ্ক আজ জলবায়ু পরিবর্তন, হিমবাহ গলে যাওয়া এবং পাহাড়ি অঞ্চলের বর্তমান পরিবেশগত হুমকির এক বাস্তব ও নির্মম সত্যকে আবার আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।