টাঙ্গাইলের মধুপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আব্দুল হালিম নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার ঘটনায় পলাতক এক আসামিকে সিলেট থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৯ ও র্যাব-১৪-এর যৌথ দল।
গ্রেফতারকৃত আসামির মো. শাহাজালাল (২২)। তিনি টাঙ্গাইলের মধুপুর থানার ভবানীটেকী (লামাপাড়া বাজার) এলাকার মো. হাবিবুর রহমানের ছেলে।
র্যাব জানায়, নিহত আব্দুল হালিম টাঙ্গাইলের মধুপুর থানার ভবানীটেকী এলাকার বাসিন্দা। নিহত ও অভিযুক্তরা পরস্পরের বংশীয় আত্মীয়-স্বজন। দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে জমিজমা ও পারিবারিক বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল। এ বিরোধের জেরে আসামিরা বিভিন্ন সময় নিহত ও তার পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছিলেন।
গত ১১ আগস্ট সকালে নিহতের ভাই মো. সোহেল ওরফে হাতেম আলী মোবাইল ফোনে আব্দুল হালিমকে মধুপুর থানাধীন ব্রাহ্মণবাড়ি ফকিরবাড়িতে যেতে বলেন। ওইদিন বিকেল আনুমানিক ৫টা ১০ মিনিটে তিনি সেখানে পৌঁছালে এক আসামি জমিজমা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে তাকে গালাগাল ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন।
এরপর একই ঘটনার জেরে রাত আনুমানিক ৯টা ৫০ মিনিটে মো. মোজাম্মেল হকসহ অন্যান্য আসামি দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আব্দুল হালিমের বাড়িতে যায়। অভিযোগ অনুযায়ী, মোজাম্মেল হকের নির্দেশে অন্য আসামিরা তাকে টেনেহিঁচড়ে বাড়ির পাশের পাকা সড়কে নিয়ে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করেন। পরে তারা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
নিহতের চিৎকার শুনে পরিবারের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের ছেলে বাদী হয়ে মধুপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার পর আসামিদের আইনের আওতায় আনতে র্যাব-৯ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে।
এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৯-এর সদর কোম্পানি, সিলেট এবং র্যাব-১৪-এর সিপিসি-৩, টাঙ্গাইলের যৌথ আভিযানিক দল বুধবার (২৬ আগস্ট) রাত আনুমানিক ১০টা ৪৫ মিনিটে সিলেটের গোয়াইনঘাট থানাধীন রাধানগর বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে শাহাজালালকে গ্রেফতার করে।
র্যাবের তথ্যমতে, গ্রেফতার শাহাজালাল টাঙ্গাইলের মধুপুর থানার মামলা নং-১৬, তারিখ ১৪ আগস্ট ২০২৬-এর এজাহারনামীয় ৫ নম্বর পলাতক আসামি। তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৪৩/৪৪৭/৩২৩/৩২৫/৩০২/১১৪/৩৪ ধারায় মামলা রয়েছে।
এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন র্যাব-৯-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, গ্রেফতার আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
র্যাব-৯ আরও জানায়, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তাদের গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.