প্রকাশিত: ২৫ আগস্ট, ২০২৬ ১৯:৩৫ (বৃহস্পতিবার)
বাড়িতে ধীরগতির ওয়াই-ফাই? এই ৫ কাজ করলে মিলবে সমাধান

ছবি: সংগৃহীত

বর্তমানে বাড়িতে ইন্টারনেটের ব্যবহার আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি। স্মার্টফোন, টিভি, ল্যাপটপ, ট্যাব, স্মার্ট স্পিকার- প্রায় সব ডিভাইসই নির্ভর করছে এখন ওয়াই-ফাইয়ের (Wi-Fi) ওপর। ফলে একসঙ্গে অনেক ডিভাইস যুক্ত থাকলে কখনো কখনো ইন্টারনেটের গতি কমে যেতে পারে। তবে ওয়াই-ফাই ধীরগতির হলেই নতুন কানেকশন নেওয়া বা টেকনিশিয়ান ডাকার প্রয়োজন হয় না। রাউটারের কিছু সেটিংস ও ব্যবহারের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনলেই অনেক সময় সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।

চলুন জেনে নেওয়া যাক, কোন পাঁচটি কাজ করলে ওয়াই-ফাইয়ের (Wi-Fi) পারফরম্যান্স ভালো পাওয়া যেতে পারে-

রাউটার রাখুন সঠিক জায়গায়: ওয়াই-ফাইয়ের (Wi-Fi) গতি ও কভারেজ অনেকটাই নির্ভর করে রাউটারটি কোথায় রাখা হয়েছে তার ওপর। রাউটার যতটা সম্ভব বাড়ির মাঝামাঝি, খোলা ও উঁচু জায়গায় রাখা ভালো। এতে বিভিন্ন দিকে সিগন্যাল ছড়িয়ে পড়তে সুবিধা হয়। মোটা দেয়াল, বড় আলমারি বা অন্য কোনো ভারী আসবাবের আড়ালে রাউটার রাখলে সিগন্যাল দুর্বল হতে পারে। একইভাবে মাইক্রোওয়েভসহ কিছু ইলেকট্রনিক যন্ত্রের কাছ থেকেও রাউটার দূরে রাখা ভালো।

সম্ভব হলে 5GHz ব্যান্ড ব্যবহার করুন: বর্তমানের অনেক রাউটারেই 2.4GHz ও 5GHz- দুই ধরনের ব্যান্ড ব্যবহারের সুবিধা থাকে। কাছাকাছি থাকা ডিভাইসে দ্রুতগতির ইন্টারনেট প্রয়োজন হলে 5GHz ব্যান্ড বেশ কার্যকর। ভিডিও কল, অনলাইন গেমিং এইচডি ভিডিও স্ট্রিমিংয়ের মতো কাজে 5GHz তুলনামূলক ভালো গতি দিতে পারে। তবে এর রেঞ্জ 2.4GHz-এর চেয়ে কম। তাই বাড়ির দূরের ঘরে থাকা ডিভাইসের ক্ষেত্রে 2.4GHz বেশি কার্যকর হতে পারে।

রাউটার রিবুট করুন: অনেক দিন ধরে রাউটার একটানা চালু থাকলে কখনো কখনো সাময়িক প্রযুক্তিগত সমস্যা দেখা দিতে পারে। Wi-Fi হঠাৎ ধীর হয়ে গেলে রাউটার বন্ধ করে কয়েক মিনিট অপেক্ষা করে আবার চালু করে দেখতে পারেন। অনেক ক্ষেত্রে এতে সংযোগের ছোটখাটো সমস্যা ঠিক হয়ে যায়। তবে রিবুট করার পরও যদি বারবার একই সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে শুধু রাউটার বন্ধ-চালু না করে সমস্যার মূল কারণ খুঁজে দেখা জরুরি।

অপ্রয়োজনীয় ডিভাইস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করুন: আপনার ওয়াই-ফাইতে (Wi-Fi) বর্তমানে কতগুলো ডিভাইস যুক্ত রয়েছে, সেটিও একবার দেখে নেওয়া ভালো। পুরোনো ফোন, ট্যাব, স্মার্ট টিভি কিংবা অন্য কোনো ডিভাইস প্রয়োজন না থাকলেও নেটওয়ার্কে যুক্ত থাকতে পারে। এক্ষেত্রে রাউটারের অ্যাপ বা সেটিংস থেকে connected devices-এর তালিকা দেখে অপ্রয়োজনীয় ডিভাইসগুলো সরিয়ে দিতে পারেন। এতে নেটওয়ার্কের ওপর চাপ কিছুটা কমতে পারে এবং প্রয়োজনীয় ডিভাইসগুলোতে সংযোগ আরও ভালো পাওয়া যেতে পারে।

রাউটারটি খুব পুরোনো কি না দেখুন: বছরের পর বছর একই রাউটার ব্যবহার করলেও ওয়াই-ফাইয়ের (Wi-Fi) পারফরম্যান্সে প্রভাব পড়তে পারে। পুরোনো রাউটার নতুন প্রজন্মের বেশি সংখ্যক ডিভাইস বা উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযোগ ঠিকভাবে সামলাতে সক্ষম নাও হতে পারে। এক্ষেত্রেও সেটি বদলে ফেলার কথা ভাবতে পারেন। তবে রাউটার বদলানোর আগে আপনার বর্তমান রাউটারের সক্ষমতা ও ইন্টারনেট প্যাকেজের গতি যাচাই করে নেওয়া ভালো।

সবকিছু ঠিক থাকার পরও যদি ওয়াই-ফাইয়ের (Wi-Fi) গতি প্রত্যাশামতো না হয়, তাহলে সমস্যা শুধু রাউটারে নাও থাকতে পারে। ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারের নেটওয়ার্ক বা সংযোগের সমস্যার কারণেও গতি কমে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে আপনার আইএসপির (ISP) সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি পরীক্ষা করিয়ে নেওয়াই উত্তম।