প্রতিকী ছবি
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার রজনীগঞ্জ (টানাখালি) এলাকায় কালনী নদী থেকে তিনদিন ধরে নিখোঁজ থাকা লাকি বেগম (৩০) নামে এক গৃহপরিচারিকার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২৩ আগস্ট) বিকেলে টানাখালি এলাকার কালনী নদী থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এর আগে শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকাল থেকে নিখোঁজ ছিলেন তিনি।
নিহত লাকি বেগম জেলার দিরাই উপজেলার জগদল গ্রামের মৃত আব্দুস শহিদ মিয়ার মেয়ে।
পুলিশ ও নিহতের স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, নিহত লাকি বেগমের বাবা-মা ও ভাই ইতঃপূর্বে মৃত্যুবরণ করেছেন। নিঃসন্তান এতিম ও অসহায় লাকি বেগম বিবাহবিচ্ছেদের পর স্বজনদের আশ্রয়ে থাকতেন। গত ১১ মাস ধরে শান্তিগঞ্জ উপজেলার পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নের সলফ গ্রামের কামাল মিয়ার বাড়িতে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করছিলেন তিনি।
নিহতের ছোট চাচা দবির মিয়া অভিযোগ করে বলেন, আমার এতিম ভাতিজিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছেন গৃহকর্তা কামাল মিয়া। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।
তবে গৃহকর্তা কামাল মিয়ার দাবি, গত শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে লাকি বেগম কাউকে কিছু না জানিয়ে ঘরের কিছু চাবি ও নিজের কাপড়ের ব্যাগ নিয়ে হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যান। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পর সন্ধান না পেয়ে তিনি শান্তিগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। লাকি বেগম হয়ত পানিতে পড়ে গিয়ে মারা গেছেন।
দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে কালনী নদী থেকে লাকি বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং স্বজনরা তার পরিচয় শনাক্ত করেছেন। তার মৃত্যুর কারণ জানতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহত নারীর স্বজনরা নানা অভিযোগ করছেন। তবে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.