প্রকাশিত: ২৪ আগস্ট, ২০২৬ ১৮:০০ (মঙ্গলবার)
দুঃসময়ে আল্লাহর সাহায্য লাভের ৩ উপায়

ছবি: সংগৃহীত

বিপদ-আপদ, দুঃখ-দুর্দশা আমাদের জীবনের অংশ। বিপদ-আপদের সময় ধৈর্য না হারিয়ে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা ঈমানের অংশ। এ সময় বিপদ থেকে মুক্তির জন্য আল্লাহর সাহায্য চাওয়া এবং তার দরবারে ফিরে যাওয়া একজন মুমিনের অপরিহার্য দায়িত্ব ও কর্তব্য।

একজন মুমিনের জন্য বিপদ-আপদ আল্লাহর পক্ষ থেকে পরীক্ষা। তবে আল্লাহর পরীক্ষা বা বিপদ বলতে কী বোঝায়, তা বুঝতে হবে একটি হাদিসের মাধ্যমে। সাহাবিরা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে জানতে চেয়েছিলেন, কারা সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন—

হে আল্লাহর রাসুল, মানুষের মধ্যে কারা সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হন? তিনি বললেন, নবীরা, এরপর যারা তাদের নিকটতম, এরপর যারা তাদের নিকটতম। মানুষকে তার দ্বীনের দৃঢ়তা অনুযায়ী পরীক্ষা করা হয়। তার দ্বীন যদি দৃঢ় হয়, তাহলে তার পরীক্ষা কঠিন হয়। আর তার দ্বীনে দুর্বলতা থাকলে তাকে তার দ্বীনের মাত্রা অনুযায়ী পরীক্ষা করা হয়। এভাবে বান্দা পরীক্ষা ও বিপদের মধ্যে থাকতে থাকে, এক সময় পৃথিবীতে এমনভাবে চলাফেরা করে যে তার কোনো গুনাহ অবশিষ্ট থাকে না। (তিরমিজি)

দুঃসময় ও খারাপ সময়কে জীবনের পরীক্ষার অংশ হিসেবে গ্রহণ করা উচিত। খারাপ সময়ে একজন মুমিনের করণীয় কী হতে পারে, তা তুলে ধরা হলো: 

আল্লাহর দিকে ফিরে আসুন

অনেক সময় দুঃখ-দুর্দশা মানুষকে এমনভাবে গ্রাস করে যে সে হতাশ হয়ে পড়ে। জীবনের সবকিছু অর্থহীন মনে হয়। এই সময়গুলোতে আল্লাহর ওপর নির্ভর করা উচিত। কারণ, বিপদ দেওয়া ও বিপদ থেকে উদ্ধারের মালিক একমাত্র আল্লাহ তায়ালা

পবিত্র কোরআনে এমন কিছু মানুষের কথা বলা হয়েছে, যারা সমুদ্রে নৌযানে ভ্রমণ করছিল। ঝড়ের কবলে পড়ে যখন তারা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ল এবং মনে হলো আর কোনো উপায় নেই, তখন তারা সৃষ্টিজগতের স্রষ্টা আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইল। আল্লাহ তায়ালা বলেন—

তুমি কি দেখ না, আল্লাহর অনুগ্রহে সমুদ্রে নৌযানগুলো চলাচল করে, যাতে তিনি তোমাদের তার নিদর্শনাবলি দেখাতে পারেন? নিশ্চয় এতে প্রত্যেক ধৈর্যশীল ও কৃতজ্ঞ ব্যক্তির জন্য নিদর্শন রয়েছে। যখন ঢেউ তাদের ওপর পাহাড়ের মতো আছড়ে পড়ে, তখন তারা একনিষ্ঠভাবে শুধু আল্লাহকে ডাকে। এরপর তিনি যখন তাদের নিরাপদে স্থলে পৌঁছে দেন, তখন তাদের কেউ কেউ মধ্যপন্থা অবলম্বন করে। আর আমার নিদর্শন অস্বীকার করে শুধু বিশ্বাসঘাতক ও অকৃতজ্ঞ ব্যক্তি। (সূরা লুকমান, আয়াত : ৩১-৩২)

আল্লাহর কাছে দোয়া করা

আল্লাহর ওপর ভরসা রাখার পাশাপাশি তার কাছে বিপদ থেকে মুক্তির জন্য দোয়া করা উচিত। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, যে আল্লাহকে ডাকে, তিনি তার ডাকে সাড়া দেন। এছাড়াও দোয়ার মাধ্যমে অন্তরে এক ধরনের প্রশান্তি লাভ হয়।

যেসব সময়ে দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে, সেসব সময়ে দোয়া করা উচিত। আজান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়, রাতের শেষ তৃতীয়াংশ এবং প্রতি শুক্রবার সূর্যাস্তের আগের শেষ এক ঘণ্টা—এমন কিছু সময়, যখন দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

আল্লাহর জিকির করা

পবিত্র কোরআনে বেশি বেশি আল্লাহর জিকির করতে বলা হয়েছে। অন্য কোনো ইবাদত সম্পর্কে এমন কথা বলা হয়নি। আল্লাহর জিকির মানুষকে সব ধরনের গুনাহ থেকে রক্ষা করে।

আল্লাহ তায়ালা বলেন, আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণ করবে যাতে তোমরা সফলতা অর্জন কর।(সূরা আনফাল, আয়াত : ৪৫) 

আরও বর্ণিত হয়েছে, ‘যারা ঈমান আনে এবং আল্লাহর স্বরণে যাদের অন্তর প্রশান্ত হয়,  জেনে রাখ আল্লাহর জিকির দ্বারাই অন্তরসমূহ শান্তি পায়।’ (সূরা রাদ, আয়াত : ২৮)