সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে টাঙ্গুয়ার হাওর হয়ে যাদুকাটা নদীতে ভ্রমণে যাওয়ার পথে চলন্ত হাউসবোট থেকে বৌলাই নদীতে পড়ে নিখোঁজ হওয়া রুকাইয়া নুর (১০) নামে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর, রোববার (২৩ আগস্ট) সকালে উপজেলার বালিজুরী ইউনিয়নের পিরোজপুর গ্রামের কাছে বৌলাই নদীতে ভাসমান অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত রুকাইয়া নুর ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানার গল চামোট ২ নম্বর সড়ক এলাকার চিকিৎসক ডা. শাহনুর রহমানের মেয়ে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রুকাইয়া নুরসহ প্রায় ২০ জন পর্যটক সাফিনা এ লাক্সারী ওয়াটার ভিলা নামের একটি হাউসবোটে করে মধ্যনগর থেকে টাঙ্গুয়ার হাওর ও তাহিরপুরের বিভিন্ন পর্যটনস্পট ঘুরতে যান। শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুপুরে হাউসবোটটি টাঙ্গুয়ার হাওর হয়ে যাদুকাটা নদীর উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।
পথে দক্ষিণকুল গোদারাঘাট এলাকায় বৌলাই নদীতে পৌঁছালে বিকেল আড়াইটার দিকে চলন্ত হাউসবোট থেকে হঠাৎ পানিতে পড়ে যায় রুকাইয়া। পরে হাউসবোটে থাকা পর্যটক ও সংশ্লিষ্টরা নদীতে নেমে এবং বিভিন্নভাবে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি।
খবর পেয়ে শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। নৌযান ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে বৌলাই নদীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হলেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।
অবশেষে রোববার সকালে পিরোজপুর গ্রামের কাছে নদীতে ভাসমান অবস্থায় শিশুটির মরদেহ পাওয়া যায়।
হাউসবোটে থাকা পর্যটক সাজ্জাদ হোসেন সিয়াম জানিয়েছিলেন, মধ্যনগর থেকে টাঙ্গুয়ার হাওর হয়ে হাউসবোটটি যাদুকাটার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে বিকেল আড়াইটার দিকে শিশুটি নদীতে পড়ে যায়। এরপর বোটে থাকা সবাই তাকে খুঁজতে চেষ্টা করলেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।
তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমদ বলেন, শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর রোববার সকালে বৌলাই নদী থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.