প্রকাশিত: ২৩ আগস্ট, ২০২৬ ১৩:০০ (সোমবার)
OTP কী, কাউকে দেওয়া কেন বিপজ্জনক

ছবি: সংগৃহীত

মোবাইলে টাকা পাঠানো, অনলাইনে কেনাকাটা, কোনো অ্যাকাউন্টে লগইন বা পাসওয়ার্ড বদলানোর সময় ফোনে কয়েকটি সংখ্যার একটি কোড আসে। এই কোড বা পিনই হলো OTP বা ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড।

OTP-এর পূর্ণরূপ One-Time Password। সহজভাবে বললে, এটি একবার ব্যবহার করার একটি গোপন কোড।


সাধারণত কোনো কাজ নিশ্চিত করার জন্য এই কোড দেওয়া হয়। যেমন-আপনি সত্যিই লগইন করছেন কি না, টাকা পাঠাচ্ছেন কি না বা পাসওয়ার্ড বদলাচ্ছেন কি না, সেটি যাচাই করতে OTP চাওয়া হতে পারে।
 
এই কোড অল্প সময়ের জন্য কাজ করে। কিছু সময় পর এটি আর ব্যবহার করা যায় না।

OTP কোথায় ব্যবহার হয়
OTP অনেক জায়গায় ব্যবহার করা হয়। যেমন— ব্যাংক বা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসে টাকা লেনদেন, অনলাইনে কেনাকাটা, নতুন ফোন বা কম্পিউটার থেকে অ্যাকাউন্টে ঢোকা, পাসওয়ার্ড বদলানো বা ভুলে যাওয়া পাসওয়ার্ড নতুন করে সেট করার সময় OTP আসতে পারে।

OTP এসএমএস, ই-মেইল বা অথেনটিকেটর অ্যাপের মাধ্যমে আসতে পারে।

সব OTP একই কাজের জন্য নয়। কোনো OTP লগইনের জন্য, কোনোটি পাসওয়ার্ড বদলানোর জন্য, আবার কোনোটি টাকা লেনদেনের জন্য ব্যবহার করা হয়।

বিকাশও গ্রাহকদের PIN ও OTP কারও সঙ্গে শেয়ার না করার পরামর্শ দেয়।

কাউকে OTP দিলে কী বিপদ হতে পারে
OTP খুবই গোপন একটি কোড। তাই এটি কাউকে বলা উচিত নয়।

ধরুন, কোনো প্রতারকের কাছে আগে থেকেই আপনার অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড, কার্ডের তথ্য বা অন্য কিছু তথ্য আছে। তখন OTP পেয়ে গেলে সে আপনার অ্যাকাউন্টে ঢোকার চেষ্টা করতে পারে।

কিছু ক্ষেত্রে OTP ব্যবহার করে প্রতারক টাকা লেনদেন, পাসওয়ার্ড পরিবর্তন বা অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টাও করতে পারে। তাই কেউ OTP চাইলে খুব সতর্ক হতে হবে।

প্রতারকরা কীভাবে OTP চায়
প্রতারকরা অনেক সময় ফোন করে নিজেদের ব্যাংক, বিকাশ, নগদ বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা বলে পরিচয় দেয়।
তারা বলতে পারে— 
আপনার অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যাবে।
KYC হালনাগাদ করতে হবে।
আপনি পুরস্কার পেয়েছেন।
আপনার অ্যাকাউন্টে সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে।
এগুলো বন্ধ করতে OTP দিতে হবে।
এ ধরনের কথা শুনে ভয় পাবেন না। OTP দেবেন না।

প্রতারকরা এসএমএস, মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ বা ভুয়া ওয়েবসাইটের মাধ্যমেও OTP নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে।
বাংলাদেশের জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সিও OTP, PIN ও পাসওয়ার্ড গোপন রাখতে বলেছে।

নিজে কিছু না করেও OTP এলে কী করবেন
আপনি লগইন করেননি, টাকা পাঠাননি বা পাসওয়ার্ড বদলানোর চেষ্টা করেননি—তারপরও যদি হঠাৎ OTP আসে, তাহলে সেটি কাউকে বলবেন না।

কেউ ভুল করে আপনার নম্বর দিয়ে থাকতে পারে। আবার কেউ আপনার অ্যাকাউন্টে ঢোকার চেষ্টাও করতে পারে।

বারবার OTP এলে আপনার অ্যাকাউন্ট পরীক্ষা করুন। সন্দেহ হলে অফিসিয়াল অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে গিয়ে পাসওয়ার্ড বদলে ফেলুন।

OTP আসার পর কেউ ফোন করে কোড চাইলে দেবেন না। সে ব্যাংক বা কোনো পরিচিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা বলে পরিচয় দিলেও OTP বলা ঠিক নয়।

ভুল করে OTP দিয়ে ফেললে কী করবেন
ভুল করে কাউকে OTP বলে দিলে বা কোনো সন্দেহজনক ওয়েবসাইটে লিখে দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক, বিকাশ, নগদ বা অন্য সেবাদাতার অফিসিয়াল নম্বর বা চ্যানেলে যোগাযোগ করুন। সম্ভব হলে দ্রুত পাসওয়ার্ড বা PIN বদলে ফেলুন।

অ্যাকাউন্ট থেকে কোনো টাকা গেছে কি না বা অপরিচিত কেউ লগইন করেছে কি না, সেটিও পরীক্ষা করুন। কোনো অচেনা লেনদেন দেখলে সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে জানান।

সহজ করে মনে রাখুন
OTP হলো আপনার গোপন কোড।
OTP কাউকে বলবেন না।
ফোনে বলবেন না।
মেসেজে পাঠাবেন না।
মেসেঞ্জার বা হোয়াটসঅ্যাপে দেবেন না।
কোনো অচেনা লিংকে OTP লিখবেন না।

OTP যে কাজের জন্য এসেছে, শুধু সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে নিজে ব্যবহার করুন।
একটি OTP অল্প সময়ের জন্য কাজ করলেও সেই অল্প সময়ই প্রতারকের জন্য যথেষ্ট হতে পারে।