ছবি সংগৃহীত :
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে জাহিদ আল আমিন বুলবুল (৪০) নামের এক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মূল পরিকল্পনাকারীসহ ১১ জন আসামিকে গ্রেফতার করেছে বন্দর থানা পুলিশ। এ সময় আসামিদের কাছ থেকে ওয়াকিটকিসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান মুন্সী এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নিহত জাহিদ আল আমিন বুলবুল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আন্দোলনরত ছাত্রদের খাবার সরবরাহ করতেন।
এরই জেরে গত ২৩ জুলাই আসামিরা অনধিকার প্রবেশ করে তার অটো রিকশার গ্যারেজ থেকে ১৮ লাখ ১৭ হাজার ৪০০ টাকার মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়। এই ঘটনায় মামলা দায়ের করায় আসামিরা তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ২০ আগস্ট রাতে নিহত বুলবুল কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে সালেহ নগর এলাকায় পৌঁছালে আসামিরা তার পথরোধ করে। পরে শীর্ষ সন্ত্রাসী শেখ সিফাতের হুকুম ও নেতৃত্বে আসামিরা রামদা, চাপাতি, লোহার পাইপ ও সুইচ গিয়ার চাকু দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করে হত্যা করে।
ঘটনার পরদিন অর্থাৎ ২১ আগস্ট থানায় একটি হত্যা মামলা (মামলা নং-৪০) করা হয়।
মামলা দায়েরের পর পুলিশের একটি টিম তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার মাত্র ৬ ঘণ্টার মধ্যে অভিযান চালিয়ে পাক পাঞ্জাতন সিটি জামে মসজিদ সংলগ্ন এলাকা থেকে মূল আসামি শেখ সিফাতসহ (৩২) মোট ১১ জন আসামিকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতার অন্য আসামিরা হলেন, জুমান (২৮), মাহবুব হোসেন ওরফে মাহাফুজ (৩২), রিয়াদ (৩৩), মো. সিয়াম (২৫), মোসা. মিনারা (৩৫), নাসিমা (৩৬), রুমা (৩৬), ইফরান (২৯), ইয়াসমিন (৪০) এবং সিজান ওরফে জিসান (২৬)।
গ্রেফতারকালে আসামিদের কাছ থেকে ১টি রামদা, ২টি সুইচ গিয়ার চাকু, ১টি স্টিলের চাপাতি, ১টি লোহার পাইপ, ১টি প্লাস্টিকের বাট যুক্ত স্টিলের ছুরি, ৪টি এসএস এর লোহার পাইপ এবং ১টি ওয়াকি-টকি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত মূল আসামি শেখ সিফাতের বিরুদ্ধে ১৪টি, জুমানের বিরুদ্ধে ৯টি এবং রিয়াদের বিরুদ্ধে ৪টি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামিদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.