ছবি সংগৃহীত :
দীর্ঘ ৩৫ বছর পর নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়াকে গণতন্ত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখছেন সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যরা।
নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে নিয়ে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলের নারী সংসদ সদস্যদের বক্তব্যে উঠে এসেছে ভিন্ন ভিন্ন প্রত্যাশা।
কেউ তার দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখার ভূমিকার প্রশংসা করেছেন, আবার কেউ রাষ্ট্রপতি হিসেবে দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে পুরো দেশের মানুষের জন্য কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে নারী সংসদ সদস্যরা বলেন, দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে এমন একজন অভিজ্ঞ ও লড়াকু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের নির্বাচন নতুন প্রত্যাশার জন্ম দিয়েছে।
তাদের প্রত্যাশা, তিনি দেশের রাজনৈতিক বিভাজন কমিয়ে জাতীয় ঐক্য, গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থ সমুন্নত রাখতে ভূমিকা রাখবেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য সেলিমা রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী যাকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনীত করেছেন, তিনি একজন যোগ্য ব্যক্তি।
দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংগ্রাম ও কঠিন সময়ে দলের পাশে থাকার অভিজ্ঞতা তাকে রাষ্ট্রপতি পদের জন্য যোগ্য করে তুলেছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের বাইরে থাকাকালেও তিনি দলকে ধরে রেখেছিলেন।
কঠিন সময়ে দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখা এবং সংগঠনকে টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
বিএনপির স্বনির্ভর বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনি বলেন, নতুন রাষ্ট্রপতি দীর্ঘ ১৭ বছর ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন এবং দলের সঙ্গে একাত্ম থেকে আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রেখেছেন।দলকে ভেঙে দেওয়ার অনেক চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু তার নেতৃত্ব ও ভূমিকার কারণে দল ভাঙেনি। এটি তার একটি অবিস্মরণীয় অবদান।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি'র সদস্য ও সংসদ সদস্য নাদিয়া পাঠান পাপন নতুন রাষ্ট্রপতির প্রতি প্রত্যাশার কথা জানিয়ে বলেন, তিনি একজন সজ্জন ব্যক্তি। দেশের সবচেয়ে ক্রান্তিকালে তিনি একটি দলের পতাকা ধরে রেখেছিলেন। সবসময় জনগণের কথা বলেছেন, জনগণের পক্ষে বলেছেন এবং জনগণের জন্য কথা বলেছেন।
তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি, এখন তিনি বাংলাদেশের জন্য বলবেন, বাংলাদেশের হয়ে বলবেন এবং বাংলাদেশের পক্ষেই কাজ করবেন। বাংলাদেশের জন্যই তিনি তার জীবনের বাকি সময় উৎসর্গ করবেন—এটাই আমার বিশ্বাস ও প্রত্যাশা।
তিনি আরও বলেন, যে দলকে তিনি এত বছর ধরে ভালোবেসেছেন এবং আগলে রেখেছেন, সেই দলও তাকে সর্বোচ্চ সম্মান দিয়েছে। আমি আশা করি, তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে সেই সম্মানের মর্যাদা রাখবেন।
বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য বিথীকা বিনতে হোসাইন নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে আনন্দের বিষয় উল্লেখ করে বলেন, দীর্ঘ ৩৫ বছর পর ভোটের মাধ্যমে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি এমন একজন ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন, যিনি বিগত সরকারের সময়ে পুরো বিএনপিকে সংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধ রাখতে ভূমিকা রেখেছেন। তিনি শুধু একটি দলের নন, সর্বদলের কাছেই একজন সম্মানিত ব্যক্তি।
তিনি বলেন, দেশের সর্বোচ্চ পদে একজন সজ্জন ও শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তির নির্বাচিত হওয়া তাদের জন্য আনন্দের।
নতুন রাষ্ট্রপতির কাছে প্রত্যাশার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের বিদ্যমান সংকট মোকাবিলা করে বাংলাদেশকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে হবে। একই সঙ্গে দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে হবে।
বিএনপি মনোনীত সর্বকনিষ্ঠ সংসদ সদস্য মানসুরা আক্তার বলেন, দীর্ঘ ৩৫ বছর পর বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়েছে। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নির্বাচনের মাধ্যমে একজন ব্যক্তি নির্বাচিত হওয়া গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, এই ভূখণ্ডের একজন লড়াকু সৈনিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং দীর্ঘ ১৭ বছরের গণতন্ত্র পুনরুজ্জীবনের আন্দোলনের অন্যতম সৈনিক মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন।
একজন তরুণ সংসদ সদস্য হিসেবে নতুন রাষ্ট্রপতির কাছে তার প্রত্যাশা তুলে ধরে মানসুরা বলেন, একটি নতুন, সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী বাংলাদেশ গড়ে তুলতে তিনি ভূমিকা রাখবেন।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার সাংবিধানিক দায়িত্ব তিনি দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পালন করবেন এবং বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থে কাজ করবেন—এটাই প্রত্যাশা।
তবে নতুন রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে কিছুটা ভিন্ন প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতু।
তিনি বলেন, গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই তারা মূলত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন। তবে তারা যে ধরনের ক্ষমতার ভারসাম্যের প্রত্যাশা করেছিলেন, তা এখনও পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি।
ডা. মাহমুদা মিতু বলেন, তারা জুলাই সনদের আলোকে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ব্যবস্থা দেখতে চেয়েছিলেন।
নতুন রাষ্ট্রপতির প্রতি প্রত্যাশার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি এখন আর কোনো দলের নন; তিনি পুরো বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি।
তার ভাষায়, দেশে দীর্ঘদিন ধরে যে দলীয়করণের প্রবণতা তৈরি হয়েছে, নতুন রাষ্ট্রপতি সেই সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠবেন বলেই তিনি প্রত্যাশা করেন।
ডা. মাহমুদা মিতু বলেন, তিনি যেন দলীয়করণের বাইরে এসে সারা বাংলাদেশের মানুষের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
নারী সংসদ সদস্যদের বক্তব্যে নতুন রাষ্ট্রপতিকে ঘিরে যেমন আনন্দ ও উচ্ছ্বাস দেখা গেছে, তেমনি উঠে এসেছে দায়িত্বশীল ও নিরপেক্ষ রাষ্ট্রপতির প্রত্যাশাও। তাদের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও আন্দোলন-সংগ্রামের পথ পেরিয়ে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে আসা নতুন রাষ্ট্রপতির সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে পুরো জাতির অভিভাবক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.