প্রকাশিত: ২১ আগস্ট, ২০২৬ ১৬:৫৬ (শুক্রবার)
চাঁদা না পেয়ে ঠিকাদারকে পিলারে বেঁধে মারধরের অভিযোগ

ছবি সংগৃহীত :

গাজীপুরের শ্রীপুরে রাজ মিস্ত্রীর ঠিকাদার সোহেল ভূঁইয়া (৪০) প্রকাশ্যে সিমেন্টের পিলারের সঙ্গে বেঁধে মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে বেসরকারী স্কুলের শিক্ষক ও তার সহেযাগীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাতে শ্রীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। 

 

 

 

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনূর আলম অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেন।

সোহেল মিয়া (৪০) শ্রীপুর পৌরসভার বেড়াইদেরচালা (২নং সিএন্ডবি) এলাকার মৃত নূরুল ইসলাম ভূঁইয়ার ছেলে। তিনি বসতবাড়ির নির্মাণ কাজ কন্ট্রাক নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন।

অভিযুক্তরা হলো একই এলাকার মৃত নূরুল ইসলাম মৌলভীর ছেলে স্থানীয় প্রাইমস্টার স্কুলের প্রধান শিক্ষক মাহতাব উদ্দিন (৫৫), মৃত আমছর আলী ওরফে ফালু প্রধানের ছেলে মোশারফ হোসাইন প্রধান (৪৫), মাহতাব উদ্দিনের ছেলে তকি তাজওয়ার সাকি (২০) এবং তাদের সহযোগী অজ্ঞাত আরও পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন।

ঠিকাদার সোহেল মিয়া জানান, গত ১৮ আগস্ট সাড়ে ১১টার দিকে বেড়াইদেরচালা (২নং সিএন্ডবি) এলাকার প্রাইমস্টার স্কুলের সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় প্রধান অভিযুক্ত মাহতাব উদ্দিন, মোশারফ হোসাইন প্রধান ও তকি তাজওয়ার সাকি তার পথরোধ করে বলেন, ‘এলাকায় ঠিকাদারি কাজ করলে আমাদের অনুমতি নিয়ে কাজ করতে হবে।’ এ প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় মাহতাব উদ্দিনের হাতে থাকা লাঠি দিয়ে মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে ওই স্কুলের সামনে সিমেন্টের পিলারের সাথে রশি দিয়ে পেছনে হাত বেঁধে লোহার রড দিয়ে মাথা, পা, পিঠেসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। 

তিনি আরও জানান, এ সময় তারা ঠিকাদারের কাছ থেকে তার ব্যবহৃত ২০ হাজার টাকা মূল্যের মুঠোফোন ভাংচুর করে। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে তারা স্কুলে ভিতর চলে যায়। স্থানীয়দের সহায়তায় আমার স্বজনেরা উদ্ধার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জখমের ব্যবস্থাপত্র দেয়। মারধরের ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে। চিকিৎসা গ্রহণ করে একটু সুস্থ হওয়ার পর অভিযোগ দিতে বিলম্ব হয়েছে।

অভিযুক্ত প্রাইমস্টার স্কুলের প্রধান শিক্ষক মাহতাব উদ্দিন ওই ঠিকাদারকে মারধরের কথা শিকার করে বলেন, ঠিকাদার সোহেল ভূঁইয়া মদ্যপ অবস্থায় স্কুলের পাশ দিয়ে চিল্লাইয়া যাচ্ছিলেন। পরে তাকে আটক করে উত্তেজিত জনতা তাকে মারধর করে। পিলারে পেছনে দুই হাত বেঁধে মারধর করার অভিযোগ সঠিক নয়।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনূর আলম বলেন, ঠিকাদারকে বেঁধে প্রকাশ্যে মারধরের একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তাধীন আছে। তদন্তের পর ঘটনা প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।