ছবি সংগৃহীত :
দেখতে ছোট হলেও পুষ্টিগুণে বেশ সমৃদ্ধ মাশরুম। কম ক্যালরির এই খাবারে রয়েছে প্রোটিন, বিভিন্ন ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। তাই নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে মাশরুম খাদ্যতালিকায় রাখলে শরীরের নানা দিকেই উপকার মিলতে পারে।
মাশরুমে ক্যালরির পরিমাণ কম। পাশাপাশি এতে প্রোটিন, আঁশ, ভিটামিন বি-২, বি-৩, বি-৫ ও ফোলেটের মতো পুষ্টি উপাদান রয়েছে। এছাড়া সেলেনিয়াম, তামা, ফসফরাস, পটাশিয়াম ও লোহার মতো খনিজও পাওয়া যায়। বিশেষ করে কিছু ধরনের মাশরুম উদ্ভিদভিত্তিক প্রোটিনের ভালো উৎস।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক
মাশরুমে থাকা বিভিন্ন উপাদান শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সক্রিয় রাখতে সহায়তা করতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, মাশরুমের কিছু উপাদান রোগ প্রতিরোধকারী কোষের কার্যকারিতা বাড়াতে এবং শরীরের প্রদাহ কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।
হৃদ্যন্ত্রের যত্নে
পরিমিত মাশরুম খাওয়া হৃদ্যন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী হতে পারে। এটি রক্তচাপ ও কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে। পাশাপাশি রক্তনালির প্রদাহ কমাতেও মাশরুমের কিছু উপাদান ভূমিকা রাখতে পারে।
মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়াতে পারে
মাশরুম খাওয়ার সঙ্গে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতারও সম্পর্ক রয়েছে বলে কিছু গবেষণায় উঠে এসেছে। নিয়মিত মাশরুম খেলে স্মৃতিশক্তি, চিন্তার গতি ও মস্তিষ্কের বিভিন্ন কার্যক্রম ভালো রাখতে সহায়তা করতে পারে। মেজাজ ভালো রাখতেও এর ভূমিকা থাকতে পারে।
মাশরুমে থাকা আরগোথিওনিনের মতো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কোষকে ক্ষতিকর উপাদানের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে পারে। ফলে নিয়মিত মাশরুম খাওয়ার সঙ্গে কিছু ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকি কমার সম্পর্ক পাওয়া গেছে বিভিন্ন গবেষণায়।
রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে
মাশরুমে কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ কম। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, মাশরুমের নির্দিষ্ট উপাদান ইনসুলিনের কার্যকারিতা উন্নত করতে এবং অন্ত্রে উপকারী জীবাণুর বৃদ্ধি বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। ফলে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণেও এটি সহায়ক হতে পারে।
ত্বকের যত্নেও উপকারী
মাশরুমে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রদাহরোধী উপাদান ত্বকের জ্বালাভাব কমাতে এবং ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়তা করতে পারে। বয়সের ছাপ ধীর করতেও এর কিছু উপাদানের ভূমিকা রয়েছে বলে গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে
মাশরুমের কিছু শর্করা উপকারী অন্ত্রের জীবাণুর খাবার হিসেবে কাজ করে। ফলে অন্ত্রে উপকারী জীবাণুর বৃদ্ধি বাড়াতে এবং পরিপাকতন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করতে পারে।
ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক
যাঁরা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান, তাঁদের খাদ্যতালিকায় মাশরুম রাখা যেতে পারে। এতে ক্যালরি কম, কিন্তু আঁশ ও প্রোটিন থাকায় এটি পেট ভরা রাখতে সাহায্য করতে পারে।
শরীরের প্রদাহ কমাতে পারে
মাশরুমে থাকা বিভিন্ন জৈব সক্রিয় উপাদান শরীরের অভ্যন্তরীণ প্রদাহ কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে এটি খাদ্যতালিকার একটি উপকারী উপাদান হতে পারে।
ভিটামিন ডি-এর বিশেষ উৎস
মাশরুমের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, এটি উদ্ভিদভিত্তিক খাবারের মধ্যে ভিটামিন ডি-এর উল্লেখযোগ্য উৎস। কিছু মাশরুমকে অতিবেগুনি রশ্মি বা সূর্যের আলোতে রাখলে এতে ভিটামিন ডি-এর পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।
বয়সের ছাপ কমাতে সহায়ক
মাশরুমে থাকা আরগোথিওনিন ও গ্লুটাথিওনের মতো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের কোষকে ক্ষতিকর মুক্ত মৌলের প্রভাব থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করতে পারে। ফলে বয়সজনিত কোষের ক্ষতি কমাতে এর ভূমিকা থাকতে পারে।
রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার ভারসাম্য রক্ষায়
মাশরুমের কিছু উপাদান রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সক্রিয় করার পাশাপাশি এর ভারসাম্য বজায় রাখতেও ভূমিকা রাখতে পারে। এ কারণে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন ক্ষেত্রে মাশরুম নিয়ে গবেষণা চলছে।
কতটা মাশরুম খাওয়া যেতে পারে?
গবেষণায় প্রতিদিন প্রায় ১৮ গ্রাম মাশরুম বা সপ্তাহে মোটামুটি ১ থেকে ২ কাপ মাশরুম খাওয়ার সঙ্গে বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারের সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তবে ব্যক্তিভেদে খাদ্যের প্রয়োজন আলাদা হতে পারে। তাই কোনো নির্দিষ্ট রোগ থাকলে খাদ্যতালিকায় মাশরুম যোগ করার আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
তাই মাশরুম শুধু খাবারের স্বাদ বাড়ানোর উপাদান নয়। কম ক্যালরির পাশাপাশি এতে রয়েছে প্রোটিন, আঁশ, ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। তাই পরিমিত পরিমাণে মাশরুম নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখলে শরীরের সামগ্রিক পুষ্টি চাহিদা পূরণে এটি সহায়ক হতে পারে।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.