সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চার মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিশুটির মৃত্যু হয়। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১০৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ফলে বিভাগটির বিভিন্ন হাসপাতালে বর্তমানে সন্দেহজনক হামের রোগী হিসেবে ৩১৭ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বুধবার (১৯ আগস্ট) সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে কোনো রোগীর শরীরে পরীক্ষার মাধ্যমে হাম নিশ্চিত হয়নি। তবে একই সময়ে সন্দেহজনক হামের উপসর্গ নিয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
মারা যাওয়া শিশুটি বয়স চার মাস। বাড়ি সিলেট নগরীর সোনাপাড়ায়। তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ১ জানুয়ারি থেকে ১৯ আগস্ট পর্যন্ত সিলেট বিভাগে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় মোট ৯৮৮ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সিলেট জেলায় ৩২০, হবিগঞ্জে ১৫৩, মৌলভীবাজারে ১৫৮ এবং সুনামগঞ্জে ৩৫৭ জন রয়েছেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে সন্দেহজনক হামের উপসর্গ নিয়ে ১০৮ জন নতুন করে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৩৫ জন, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪৮, রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৬, নর্থ ইস্ট হাসপাতালে ২, বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ এবং মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ১৫ জন ভর্তি হয়েছেন।
বর্তমানে সবচেয়ে বেশি সন্দেহজনক হামের রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১৩২ জন। ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৯৯, রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৭, নর্থ ইস্ট হাসপাতালে ৬, সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ৩৬, বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২, হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে ১০ এবং মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ১৫ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নতুন এই মৃত্যুর ফলে সিলেট বিভাগে এ পর্যন্ত সন্দেহজনক ও নিশ্চিত এই দুই ধরনের হাম রোগী মিলিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩৯ জনে। এর মধ্যে সন্দেহজনক হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ১২৯ জন এবং পরীক্ষায় হাম নিশ্চিত হওয়ার পর মারা গেছেন ১০ জন। জেলা হিসেবে সিলেটে মোট মৃত্যু ৫৩, হবিগঞ্জে ১৮, মৌলভীবাজারে ১৩ এবং সুনামগঞ্জে ৫৫ জন।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.