প্রকাশিত: ১৮ আগস্ট, ২০২৬ ১৯:০৩ (বুধবার)
সিলেটে মেছো বাঘ পিটিয়ে হত্যা, ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানোর অভিযোগ

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার সদর ইউনিয়নের লাঠি গ্রামে একটি মেছো বাঘ পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শুধু হত্যাই নয়, বন্য প্রাণীটিকে পিটিয়ে মারার ঘটনার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও স্থানীয়দের অভিযোগ।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সদর ইউনিয়নের লাঠি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় বাসিন্দা কামাল হোসেন জানান, গ্রামের একটি বিদ্যালয়ের পাশে এক স্কুলছাত্রী প্রথম মেছো বাঘটিকে দেখতে পায়। প্রাণীটি দেখে আতঙ্কিত হয়ে ওই ছাত্রী চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। মানুষের উপস্থিতি টের পেয়ে মেছো বাঘটি পাশের একটি কবরস্থানে গিয়ে আশ্রয় নেয়।

পরে কয়েকজন ব্যক্তি কবরস্থান থেকে প্রাণীটিকে খুঁজে বের করে লাঠিসোঁটা দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, মেছো বাঘটিকে হত্যার পুরো ঘটনাটি ভিডিও করা হয় এবং পরে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। লাঠি গ্রামের শওকত আলীর ছেলে তাজ উদ্দীন প্রাণীটিকে পিটিয়ে হত্যায় অংশ নিয়েছেন এবং তিনিই ঘটনার ভিডিও প্রকাশ করেছেন বলেও স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।

ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা বলেন, লোকালয়ে কোনো বন্য প্রাণী প্রবেশ করলে সেটিকে হত্যা না করে বন বিভাগকে খবর দেওয়া উচিত ছিল। এভাবে একটি বন্য প্রাণীকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা এবং সেই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

মেছো বাঘ পিটিয়ে হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করে বন বিভাগের সারী রেঞ্জ অফিসার শাহ আলম বলেন, গোয়াইনঘাটে মেছো বাঘ পিটিয়ে হত্যার ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। মেছো বাঘ সাধারণত মানুষের ক্ষতি করে না। বরং ইঁদুর ও ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ দমনের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তিনি বলেন, বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন অনুযায়ী অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। লোকালয়ে কোনো বন্যপ্রাণী চলে এলে সেটিকে হত্যা না করে তাৎক্ষণিকভাবে বন বিভাগকে জানানোর জন্য তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান।

সচেতন মহল বন্যপ্রাণী হত্যা বন্ধে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসন ও বন বিভাগের আরও কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।