ছবি: সংগৃহীত
কলম্বিয়ায় ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সোমবারের (১০ আগস্ট) ৭ দশমিক ৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত ২৬৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ৩ হাজার ৫০০ জনের বেশি। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ৫০০ মানুষ।
বুধবার (১২ আগস্ট) উদ্ধারকর্মীরা ভূমিকম্পের পর ৭২ ঘণ্টার গুরুত্বপূর্ণ সময়সীমার কাছাকাছি পৌঁছান। সাধারণত ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষকে জীবিত উদ্ধারের জন্য এই সময়টিকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধরা হয়। তবে ৭২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও জীবিত কাউকে উদ্ধারের আশা পুরোপুরি ছাড়ছেন না উদ্ধারকর্মীরা।
চলতি শতকে কলম্বিয়ায় আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী এই ভূমিকম্পে ৯ হাজার ৫৫০টির বেশি ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পেরেইরা ও কালি শহর। পেরেইরায় ৮৩ জন এবং কালিতে ৭৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
কালির মেয়র আলেহান্দ্রো এদের বলেছেন, উদ্ধার অভিযান এখন শেষ পর্যায়ে ঢুকেছে। তবে এরপরও জীবিত কাউকে উদ্ধারের সম্ভাবনা রয়েছে, যদিও সময় যত গড়াচ্ছে সেই সম্ভাবনা কমছে।
পেরেইরায় ধসে পড়া একটি বেকারির নিচে একজন ফেরিওয়ালা আটকে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। কম্পন শনাক্তকারী যন্ত্রে সেখানে জীবনের সম্ভাব্য সংকেত পাওয়ার পর নতুন করে আশার আলো দেখছেন স্বজনরা।
উদ্ধারকর্মীদের ডাকে ওই ব্যক্তি ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে শব্দ করে সাড়া দিয়েছেন বলেও জানিয়েছেন তার স্বজনেরা। ফলে তাকে জীবিত উদ্ধারে জোর চেষ্টা চলছে।
কালিতেও রাতভর উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন কর্মীরা। ক্রেন, প্রশিক্ষিত কুকুর ও আধুনিক যন্ত্রের পাশাপাশি অনেক জায়গায় খালি হাতেও ধ্বংসাবশেষ সরানো হচ্ছে। জীবনের কোনো সংকেত পাওয়া যায় কি না, তা শুনতে নির্দিষ্ট সময় পরপর পুরো এলাকা নীরব করে দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন দেশটির সাধারণ মানুষ। বিভিন্ন এলাকা থেকে পানি, খাবার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে দুর্গত এলাকায় ছুটে যাচ্ছেন স্বেচ্ছাসেবকেরা। রক্তদানের কেন্দ্রগুলোতেও দেখা গেছে দীর্ঘ সারি।
ভূমিকম্পে ধ্বংস হওয়া হাসপাতাল, স্কুল, ঘরবাড়ি ও অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে জরুরি তহবিল গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা। দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র তিন দিনের মাথায় ভয়াবহ এই দুর্যোগের মুখে পড়েছেন তিনি।
প্রেসিডেন্ট বলেন, এটি বিশাল মাত্রার এক বিপর্যয়। এই মুহূর্তে সরকারের প্রধান লক্ষ্য নিখোঁজদের খুঁজে বের করা।
ভূমিকম্পে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় অর্থনৈতিক জরুরি অবস্থাও ঘোষণা করেছেন তিনি। তবে এর আওতায় কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা বিস্তারিত জানাননি।
নতুন সরকারের জন্য এই ভূমিকম্প বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। কম সরকারি ব্যয় ও কঠোর নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসা দে লা এসপ্রিয়েলার সরকারকে এখন একসঙ্গে উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্গঠনের বিশাল কাজ সামলাতে হচ্ছে।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.