ছবি সংগৃহীত :
কোলেস্টেরল বাড়লেই প্রথমে খাবারের দিকে নজর দেন অনেকে। তেল-মশলাদার খাবার বাদ দেওয়া, ভাজাপোড়া কমানো—এসবের পাশাপাশি আরও একটি বিষয় গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার। সেটি হলো দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ।
সারাদিনের দুশ্চিন্তা শুধু মনকে ক্লান্ত করে না, শরীরের ভেতরেও নানা পরিবর্তন ঘটাতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপে শরীরে কর্টিসল ও অ্যাড্রিনালিনের মতো হরমোনের মাত্রা বাড়তে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রাতেও।
মানসিক চাপ কীভাবে কোলেস্টেরল বাড়ায়?
কোনো বিপদের মুখে পড়লে শরীর নিজেকে রক্ষার জন্য দ্রুত প্রস্তুত হয়। হৃৎস্পন্দন বেড়ে যায়, রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ে এবং শরীর দ্রুত শক্তি সংগ্রহ করতে শুরু করে। এই প্রক্রিয়ায় কর্টিসল ও অ্যাড্রিনালিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সমস্যা তৈরি হয় যখন এই জরুরি অবস্থার মতো পরিস্থিতি সাময়িক না থেকে দিনের পর দিন চলতে থাকে। দীর্ঘদিন কর্টিসলের মাত্রা বেশি থাকলে লিভারে শর্করা তৈরির পাশাপাশি কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইড তৈরিতেও প্রভাব পড়তে পারে।
দুশ্চিন্তায় বদলে যায় খাবারের অভ্যাসও
মানসিক চাপের আরেকটি প্রভাব পড়ে খাবারের ওপর। চাপ বাড়লে অনেকের স্বাভাবিক খিদে ও পেট ভরা থাকার অনুভূতিতে পরিবর্তন আসে। কেউ বেশি খেতে শুরু করেন, কেউ ঘন ঘন কিছু খেতে থাকেন। আবার অনেকের মিষ্টি, তেলেভাজা বা অস্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি আকর্ষণ বেড়ে যায়।
ফলে মানসিক চাপ একদিকে শরীরের স্বাভাবিক বিপাকক্রিয়ায় প্রভাব ফেলে, অন্যদিকে খাবারের অভ্যাসও বদলে দেয়। দুই দিক মিলেই কোলেস্টেরলের সমস্যা আরও বাড়তে পারে।
দুশ্চিন্তার সঙ্গে ঘুমের সম্পর্কও গভীর। অতিরিক্ত চিন্তার কারণে রাতে ঘুম না আসা, বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়া কিংবা সকালে ঘুম থেকে উঠে ক্লান্ত লাগতে পারে।
ঘুম কম হলে পরের দিন বেশি খিদে পাওয়া, মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছা বাড়া এবং শারীরিক পরিশ্রম এড়িয়ে চলার প্রবণতা তৈরি হতে পারে। এভাবে মানসিক চাপ থেকে ঘুমের সমস্যা, ঘুমের সমস্যা থেকে খাবারের অভ্যাসে পরিবর্তন এবং সেখান থেকে ওজন ও বিপাকের সমস্যা—একটি চক্র তৈরি হতে পারে।
শরীরে আরও প্রভাব ফেলতে পারে
দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ শরীরে প্রদাহ বাড়াতে পারে এবং রক্তে শর্করার সমস্যার ঝুঁকিও বাড়াতে পারে। এর ফলে রক্তে চর্বি জমার প্রবণতা বাড়তে পারে। তাই কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে শুধু খাবারের দিকে নজর দিলেই হবে না, মানসিক চাপ কমানোর দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে।
কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে কী করবেন?
নিয়মিত শরীরচর্চা মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি হৃদ্যন্ত্রের জন্য উপকারী পুষ্টিকর খাবার খাওয়া এবং পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা জরুরি।
ধ্যান ও গভীর শ্বাস নেওয়ার অনুশীলন মনকে শান্ত রাখতে সহায়তা করতে পারে। মদ্যপান ও ধূমপান এড়িয়ে চলাও গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়ে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা সম্পর্কে জানা উচিত।
অর্থাৎ কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে শুধু কী খাচ্ছেন তা নয়, কতটা দুশ্চিন্তায় আছেন—সেদিকেও নজর রাখা জরুরি।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.