প্রকাশিত: ১০ আগস্ট, ২০২৬ ১৫:১২ (সোমবার)
মধু-রসুন খেলেই কি মেদ ঝরে? সকালে খেতে পারেন আরও যা

ছবি: সংগৃহীত

ওজন কমাতে চাইলে শুধু কম খাওয়া বা দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা নয়, প্রতিদিনের খাবারের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। শরীরচর্চার পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্যে কিছু ঘরোয়া পানীয় ও খাবার নিয়ে ওজন কমানোর নানা দাবি প্রচলিত রয়েছে।

সকালে খালি পেটে কুসুম গরম পানিতে লেবুর রস ও মধু মিশিয়ে খাওয়ার কথা অনেকেই জানেন। তবে এর বাইরেও কয়েকটি ঘরোয়া উপায় রয়েছে, যেগুলো ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে বলে মনে করা হয়।

কাঁচা রসুনের সঙ্গে মধু

সকালে খালি পেটে কাঁচা রসুন ও মধুর মিশ্রণ খাওয়ার প্রচলন রয়েছে। রসুনে থাকা অ্যালিসিন নামের উপাদান শরীরের বিপাকক্রিয়ায় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করা হয়। এ কারণে মেদ কমানো ও শরীরের অতিরিক্ত চর্বি নিয়ন্ত্রণে এই মিশ্রণকে উপকারী মনে করেন অনেকে।

এছাড়া রসুন শরীর থেকে ক্ষতিকর পদার্থ দূর করতে এবং রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে বলেও দাবি করা হয়।

মৌরি-কিশমিশের পানি

সকালের পানীয় হিসেবে মৌরি ও কিশমিশ ভেজানো পানিও খেতে পারেন। এক গ্লাস পানিতে এক চা-চামচ মৌরি ও চার থেকে পাঁচটি কিশমিশ ভিজিয়ে রাখতে হবে। প্রায় এক ঘণ্টা পর পানি ছেঁকে সকালে খালি পেটে পান করা যায়।

এই পানীয় হজমে সহায়তা করে, পেটের অস্বস্তি কমায় এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে বলে মনে করা হয়।

আদা-হলুদের পানীয়

হজমের সমস্যা কমাতে আদা ও হলুদ দিয়ে তৈরি পানীয়ও খেতে পারেন। এক কাপ পানিতে আধা ইঞ্চির মতো আদাকুচি ও আধা চামচ হলুদগুঁড়া মিশিয়ে নিতে হবে। চাইলে কাঁচা হলুদও ব্যবহার করা যায়। এর সঙ্গে এক চিমটি গোলমরিচের গুঁড়া মিশিয়ে পান করা যায়।

এই পানীয় হজমের সমস্যা ও অম্লতার অস্বস্তি কমাতে সহায়ক হতে পারে বলে প্রচলিত রয়েছে।

বিট-বেদানার পানীয়

বিট, বেদানা ও শসা দিয়েও তৈরি করতে পারেন একটি পুষ্টিকর পানীয়। এক কাপ বিটের টুকরো, এক কাপ বেদানা ও এক কাপ শসা ভালোভাবে মিশিয়ে নিতে হবে। এরপর প্রয়োজনমতো পানি দিয়ে ছেঁকে তাতে পুদিনা পাতা ও পাতিলেবুর রস মিশিয়ে পান করা যায়।

ডাবের পানি ও চিয়া সিড

গরমে শরীর সতেজ রাখতে ডাবের পানির সঙ্গে চিয়া সিড মিশিয়ে খেতে পারেন। এক গ্লাস ডাবের পানিতে এক চামচ ভেজানো চিয়া সিড মিশিয়ে নিন। এর সঙ্গে পুদিনা পাতা যোগ করা যায়। 

ডাবের পানিতে থাকা খনিজ লবণ শরীরের পানির ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে। অন্যদিকে চিয়া সিডে রয়েছে আঁশ, যা হজম ও কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সহায়ক হতে পারে।

শুধু ঘরোয়া পানীয়েই মেদ ঝরবে?

ওজন কমানোর ক্ষেত্রে এসব ঘরোয়া পানীয়কে সহায়ক খাবার হিসেবে দেখা উচিত। শুধু মধু-রসুন, মৌরি-কিশমিশের পানি বা অন্য কোনো পানীয় খেলেই দ্রুত মেদ ঝরে যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।

সুস্থভাবে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সুষম খাবার, পরিমিত খাবার গ্রহণ, নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই ঘরোয়া কোনো উপায় গ্রহণের পাশাপাশি পুরো খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রার দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।