প্রকাশিত: ০৮ আগস্ট, ২০২৬ ১৯:৪৫ (রবিবার)
ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটাকে ৫৭ কোটি ডলার জরিমানা

ছবি সংগৃহীত :

শিশুদের ক্ষতিকর কনটেন্ট ও যৌন শোষণের ঝুঁকিতে ফেলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম জায়ান্ট মেটাকে ৫৬৭ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৫৭ কোটি ডলার জরিমানা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকোর এক বিচারক। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা।

 

 

 

এর আগে একই মামলায় মেটাকে ৩৭৫ মিলিয়ন ডলার জরিমানা করা হয়েছিল। নতুন জরিমানাসহ প্রতিষ্ঠানটির মোট জরিমানার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৪২ মিলিয়ন ডলার।

মামলার দ্বিতীয় ধাপের রায়ে বিচারক ব্রায়ান বিয়েডশেইড মেটার কর্মকাণ্ডকে ‘জনদুর্ভোগ’ বা জনস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি মেটার প্ল্যাটফর্মগুলোর ক্ষতিকর প্রভাবকে শিল্পকারখানার দূষণের সঙ্গে তুলনা করেন।

বিচারক বলেন, একটি কারখানা থেকে উৎপাদিত বিষাক্ত দূষণ যেমন জনস্বার্থের ক্ষতি করে, তেমনি শিশুদের ওপর মেটার প্ল্যাটফর্মগুলোর ক্ষতিকর প্রভাব শুধু অনলাইনে সীমাবদ্ধ থাকে না। এর প্রভাব শিশু, পরিবার, বিদ্যালয়, হাসপাতাল এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার ওপরও পড়ে।

রায়ের অংশ হিসেবে ভবিষ্যতে ক্ষতি কমাতে একটি বিশেষ তহবিল গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৪২০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হবে মেটার প্ল্যাটফর্মের কারণে ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসা ও আচরণগত স্বাস্থ্য কর্মসূচিতে। পাশাপাশি শিক্ষক ও স্বাস্থ্য পেশাজীবীদের সচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক প্রশিক্ষণেও অর্থ ব্যয় করা হবে।

মেটাকে শিশু সুরক্ষায় বেশ কিছু নতুন ব্যবস্থা নেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এর মধ্যে রয়েছে ১৮ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্ট কোনো প্রাপ্তবয়স্কের কাছে সুপারিশ না করা, প্রাপ্তবয়স্কদের অপ্রাপ্তবয়স্কদের মেসেজ পাঠানো বন্ধ করা এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের নগ্নতাসংক্রান্ত ছবি পাঠানো বা গ্রহণ নিষিদ্ধ করা।

এছাড়া যৌন শোষণের সঙ্গে জড়িত প্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে ‘ওয়ান-স্ট্রাইক’ নীতি চালু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অপ্রাপ্তবয়স্কদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সময়সীমা নির্ধারণেরও নির্দেশ এসেছে। প্রতিদিন রাত ১০টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত তাদের পোস্টের ‘লাইক’ সংখ্যা গোপন রাখতে হবে। স্কুলের ছুটির দিন ছাড়া সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত পুশ নোটিফিকেশন বন্ধ রাখতে হবে। একই সঙ্গে মাসে সর্বোচ্চ ৯০ ঘণ্টা, অর্থাৎ গড়ে দিনে প্রায় তিন ঘণ্টা ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক ব্যবহারসীমা নির্ধারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নিউ মেক্সিকোর কয়েকজন আইনজীবী ২০২৩ সালে মেটার বিরুদ্ধে মামলাটি করেন। তাদের অভিযোগ ছিল, মেটার প্ল্যাটফর্মের সুপারিশমূলক অ্যালগরিদম শিশুদের ক্ষতিকর কনটেন্ট এবং যৌন শিকারিদের সংস্পর্শে নিয়ে যাচ্ছে।

মামলার প্রথম ধাপে আদালত দেখতে পায়, মেটা নিউ মেক্সিকোর অন্যায্য ব্যবসায়িক অনুশীলন আইন বারবার লঙ্ঘন করেছে। আদালতের মতে, মেটার অ্যালগরিদম কম বয়সী ব্যবহারকারীদের ক্ষতিকর কনটেন্ট ও যোগাযোগের দিকে ঠেলে দিচ্ছিল।

মেটার এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটি এই রায়ের সঙ্গে একমত নয় এবং তারা আপিল করবে। মেটার দাবি, ব্যবহারকারীদের নিরাপদ রাখতে তারা কঠোরভাবে কাজ করছে এবং অনলাইনে কিশোর-কিশোরীদের সুরক্ষায় তাদের পদক্ষেপ নিয়ে তারা আত্মবিশ্বাসী।

শিশু সুরক্ষা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে মেটার বিরুদ্ধে হাজার হাজার মামলা চলছে। নিউ মেক্সিকোর রায়ের আগে চলতি বছরের শুরুতে লস অ্যাঞ্জেলেসেও একই ধরনের একটি মামলায় প্রতিষ্ঠানটি হেরেছিল।

এদিকে, আগামী সপ্তাহে ক্যালিফোর্নিয়ায় শিশুদের গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে মেটার বিরুদ্ধে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিচার শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় তিন ডজন রাজ্যের আইনজীবীরা অংশ নিচ্ছেন।