প্রকাশিত: ০৮ আগস্ট, ২০২৬ ০০:৪৮ (শনিবার)
গানের আসর থেকে পরপারে বাউল শিল্পী পেহেলী ভৈরবী

ছবি: সংগৃহীত

 ”চোখেতে চোখ রেখে বলো, বলো না, আমায় কি মনে পড়ে না”। ছয় ঘন্টা আগে সিলেটের বিশ্বনাথে গানের আসরে  গানটি গেয়েছিলেন বাউল শিল্পী পেহেলী ভৈরবী। কে জানে এটাই হবে তার কন্ঠে শেষ গান।

শুক্রবার (০৭ আগস্ট) গানের আসর শেষ করে বাড়ির উদ্দেশ্যে ফিরছিলেন ইউনিক পরিবহণে। পথিমধ্যে সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার দয়ামীর খাসিকাপন এলাকায় সিলেট ঢাকা রুটে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারান ৯জন। নিহতদের একজন বাউল শিল্পী পেহেলী ভৈরবী।

দুর্ঘটনার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পেহেলী ভৈরবীকে নিয়ে ফেসবুকে লেখা তার শেষ পোস্টটি শেয়ার করে শোক জানাচ্ছেন ভক্ত-অনুরাগীরা। 

বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের বৈরাগীবাজারে হযরত ছাবাল শাহ (রহ.) মাজার প্রাঙ্গণে আয়োজিত একটি বাউল গানের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন পেহেলী ভৈরবী।

দুর্ঘটনার প্রায় ২৩ ঘণ্টা আগে পেহেলী ভৈরবীর ফেসবুকে লিখেন-‘আসসালামু ওয়ালাইকুম...! সবাই কেমন আছেন। আজকে ০৬/০৮/২০২৬ ইং প্রোগ্রামে যাবো, বিশ্বনাথের রামপাশা, বৈরাগীবাজার, হযরত ছাবাল শাহ মাজারে। আশপাশে যারা আছেন, সবাইকে দাওয়াত রইলো। ধন্যবাদ।’

 

শেরপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান বলেন, দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলে ৮ জন এবং হাসপাতালে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে।

যেভাবে ঘটে দুর্ঘটনা

এদিন সকাল সাড়ে ৭টায় ইউনিক পরিবহণ সিলেট থেকে ছেড়ে যায়। ঘটনাস্থলে বিপরীতগামী বেঙ্গল পরিবহন ওভারটেক করতে গিয়ে বিপরীতগামী ইউনিক পরিবহণের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ইউনিক পরিবহণের ৮ যাত্রী ঘটনাস্থলে ও একজন ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রাণ হারান।

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ওমর রাশেদ মুবিন বলেন, দুর্ঘটনাস্থলে ৮ জন মারা যান। হাসপাতালে আসা ১৬ জনকে আনা হয়। তন্মধ্যে জাইফা (৪) ঘটনাস্থলেই মারা যায়। আর সপ্তম রায় প্রিতম (২২) হাসপাতালে আনার পর মৃত্যু হয়।

নিহতরা হলেন, কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর থানার লক্ষ্মীপুর গ্রামের মৃত সাফিউদ্দিনের ছেলে হাজি সাইফুল ইসলাম (৫০), সিলেট নগরীর দক্ষিণ সুরমা থানার চণ্ডীপুল এলাকার জাহাঙ্গীরের মেয়ে, তিন বছর বয়সী শিশু ফাইজা, সিলেটের সোবহানীঘাট এলাকার উত্তম রায়ের ছেলে সপ্তম রায় প্রীতম (২২), কিশোরগঞ্জের ভৈরব থানার চণ্ডিবের গ্রামের বাবুল মিয়ার মেয়ে, বাউলশিল্পী পেহেলী ভৈরবী (১৭), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর থানার বগডহর গ্রামের মৃত বারেক মিয়ার ছেলে আবুল হোসেন (৪৪), সিলেটের জৈন্তাপুর থানার উমনপুর গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে আরমান (১৯), কুমিল্লার বাঙ্গুরা বাজার থানার পীরকাশিমপুর গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে সানিয়াদ জাহাঙ্গীর সৌরভ (৩৯), ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার শেরপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে মো. সাইফুল ইসলাম ইমন, এবং কিশোরগঞ্জের নিকলী থানার ষাইধার (আটরামপুর) গ্রামের রঞ্জিত সূত্রধরের ছেলে রুবেল সূত্রধর (৩৭)।

এ ছাড়া দুই বাসের অন্তত ২৪ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৪ জন বর্তমানে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতরা  ১৪ জন হলেন- ওয়াহাব (৪৫), ঢাকার মনসুর  আলী (৩৪), ব্রাম্মণবাড়িয়ার আতিকুল ইসলাম (৪৮),কিশোরগঞ্জের বাবুল (৪০), ব্রাম্মণবাড়িয়ার মফিজ মিয়া (৫৫), সাজিদ নুর (৪৫), নুরুন্নাহার (৪০), মুক্তার হোসেন (২৯), জাহাঙ্গীর (২৮), আফজল(৩০), আফরোজা (৩৮), মন্টু (৩০),সুমানগঞ্জের রাজু দাস (৩৫)।

আহত অন্যরা হলেন- কিশোরগঞ্জের ফারুক আহমদ (৫০), ফরিদপুরের শামীম আহমদ (৫০), ঢাকার মঞ্জু দাস (৫০), কুমিল্লার ইমরান (৩৫) গুরুতর আহত হয়ে অন্য হাসপাতালে ভর্তি আছেন।