মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় সপ্তম শ্রেণির এক কিশোরীকে অপহরণ করে ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলার প্রধান আসামি ইমরানকে (২১) গ্রেফতার করেছে র্যাব।
বুধবার (৫ আগস্ট) রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে জেলার রাজনগর উপজেলার মুন্সুরনগর ইউনিয়নের বড়কাপন এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী কিশোরীকেও উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার(৬ আগস্ট) রাতে র্যাব-৯-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
গ্রেফতারকৃত হওয়া ইমরান মৌলভীবাজার সদর থানার হাসানপুর এলাকার হারিছ মিয়ার ছেলে।
র্যাব জানায়, র্যাব-৯, সিপিসি-২ ও মৌলভীবাজারের একটি আভিযানিক দল বুধবার রাত ১২টা ১৫ মিনিটের দিকে রাজনগরের বড়কাপন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে ইমরানকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়।
র্যাব আরও জানায়, ভুক্তভোগী কুলাউড়া থানার একটি বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী। প্রায় দেড় মাস আগে কিশোরীর বাবার বাড়িতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের কাজ করতে গিয়ে ইমরানের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে ইমরান বিভিন্ন সময় ওই বাড়িতে যাতায়াত করতেন এবং মুঠোফোনে কিশোরীর সঙ্গে কথা বলতেন বলে দাবি করে র্যাব।
গত ৩ আগস্ট সকাল সাড়ে আটটার দিকে বিদ্যালয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয় কিশোরী। এরপর সে আর বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। পরে কোথাও সন্ধান না পেয়ে কুলাউড়া থানায় সাধারণ ডায়েরি করে কিশোরীর পরিবার।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, একই দিন সকাল সাড়ে নয়টার দিকে বিদ্যালয়ের সামনের সড়কে ইমরান কিশোরীকে বিয়ের প্রলোভন দেখান। পরে তার সহযোগী নাঈম ও সুরমান মিয়ার সঙ্গে পার্কে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নেওয়া হয়। পরে কিশোরীকে মৌলভীবাজার সদর থানাধীন শৈয়াপুর এলাকার নাঈমের বাড়িতে নিয়ে আটকে রাখা হয় বলে র্যাবের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
সেখানে নাঈম ও সুরমানের সহযোগিতায় ইমরান কিশোরীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে একাধিকবার ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় কিশোরীর মা বাদী হয়ে কুলাউড়া থানায় মামলা করেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য গ্রেপ্তার ইমরান ও উদ্ধার হওয়া কিশোরীকে কুলাউড়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.